‘পাবলিক পরিবহণে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত’ -সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
‘পাবলিক পরিবহণে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত’ -সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন,‘পাবলিক পরিবহণে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং পর্যাপ্ত যাত্রীর চাপ তাদেরকে যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবার জন্য পাবলিক পরিবহণে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়। সরকার পর্যায়ক্রমে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তৎপর আছে। আপনারা জানেন যে তেল নিয়ে জাতীয় সঙ্কট ও আন্তর্জাতিক সঙ্কট পড়েছে। আমাদের চেয়েও বিপদজনক অবস্হায় আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। তার পরেও আমাদের সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি তেলের সঙ্কট থেকে উত্তোরণের জন্য চেষ্টা করে আসছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের একটা ডিও লেটার দিলে গলাচিপার বন্যাতলী-চরকাজল নদীর উপর একটি সি-ট্রাকের সমস্যাটি সমাধাণের জন্য আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবো। এটাই আমাদের দলের কাজ, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
এসময় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘২৫ দিনের একটা সরকার সবাই যার যার অবস্হান থেকে কাজ করছে। জনগণের আকাঙ্খা ও প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে দাবীকে প্রাধান্য দিয়ে এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ ব্রিজটি নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নতিসহ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রীর বিশ্বাস।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রাবনাবাদ নদীর উপর বহুল কাঙ্খিত ‘রামনাবাদ সেতু’র উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের হরিদেবপুর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ রবিউল আলম।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এছাড়াও পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন।
জানা গেছে, রামনাবাদ সেতুর চুক্তিমূল্য ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ দশমিক পঞ্চান্ন টাকা এবং এর নির্মান কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ৮৮২ দশমিক ৮১মিটার দৈর্ঘে্যর সেতুর মোট স্প্যান সংখ্যা ১৯টি, পিয়ারের সংখ্যা ১৮টি, অ্যাবাটমেন্ট সংখ্যা ২টি, পাইল সংখ্যা ২১৪টি, ১.৫০ মিটার ব্যাসের পাইলের সংখ্যা ৩০টি এবং সর্বো”চ দৈর্ঘ্য ৬৩ মিটার, মোট সংযোগ ১.৪০ কিলোমিটার। সেতুটির ভার্টিক্যাল নেভিগশন ক্লিয়ারেন্স ১৮.৩০ মিটার এবং হরাজইজন্টাল নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স ৭৬.২০ মিটার। আরো জানা গেছে, লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ৭০ তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর উপর ‘রাবনাবাদ সেতু’ নির্মাণ প্রকল্প একনেক সভায় ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর অনুমোদিত হয় এবং ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়। উক্ত সেতুটি গলাচিপা, দশমিনা ও বাউফল উপজেলাকে প্রত্যক্ষভাবে এবং রাঙ্গাবালী উপজেলাকে পরোক্ষভাবে পটুয়াখালী সদর, বরগুনা এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল অঞ্চলের সাথে সরাসরি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। এর ফলে এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি পণ্য (তরমুজ, ডাল ও ধান-চাল) এবং আহরিত মৎস্য দেশের সকল অঞ্চলে পরিবহণের পথ সুগম হবে।
গলাচিপার রাবনাবাদ নদীর উপর ‘রাবনাবাদ সেতু’ উদ্বোধনের পর সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘গত সরকারের সময়েও এ চারটা প্রকল্প নেওয়া ছিলো। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের বিবেচনায় গতকালকেও আমরা পটুয়াখালীতে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা করেছি। উনি এই সড়ক পথেই এসেছেন। কাজেই ওনার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। আসলে হাইওয়ের ক্ষেত্রে এটা সিক্স লেন দরকার।’
তিনি আরো বলেন, ‘বোয়ালিয়া থেকে কোড়ালিয়া পর্যন্ত এবং বন্যাতলী থেকে চরকাজল পর্যন্ত সি-ট্র্রাকের কথা বলেছেন। আমরা চেষ্টা করছি জনগণের কানেক্টেভিটি কিংবা নৌযানের যেখানে ব্যবস্হা করা দরকার সেখানে ব্যবস্হা করা হবে। বিশেষ করে দুইটা জায়গায় সি-ট্রাকের ব্যবস্হা করা হবে।’
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স