ঢাকা , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেটা কেন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে চাপ দিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-১৬ ১২:০৩:১৭
মেটা কেন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে চাপ দিয়েছে মেটা কেন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে চাপ দিয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (PDPO) তৈরির সময় একটি বিষয় আমাদের বারবার ভাবিয়েছে, মেটা কেন শিশুদের বয়সের সংজ্ঞা নিয়ে এত অস্বাভাবিক চাপ দিচ্ছিল?

 
ডি-ফ্যাক্টো ডেটা লোকালাইজেশন (ডেটা লোকালাইজেশন অধ্যাদেশের কোনো ভার্শনেই ছিল না), পার্সোনাল ডেটার ক্রস-বর্ডার বাল্ক ট্রান্সফারÑএসব বিষয়ে অন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে, আমরা তাতে যুক্তিসংগতভাবে কাজও করেছি। সেই মতে জানুয়ারিতে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রজ্ঞাপন হয়েছে। সরকারিভাবে ঘোষিত ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো এবং সরকারের গোপনীয় (রেস্ট্রিক্টেড) ডেটা ছাড়া বাদবাকি সব ব্যক্তিগত ডেটার (ব্যক্তির সম্মতি দেওয়া ডেটার সমষ্টিগত ডেটাবেস) বাল্ক ট্র্যান্সফারে ‘সিনক্রোনাস লোকাল ব্যাকাপ’ (যাকে প্ল্যাটফর্মগুলো ডি-ফ্যাক্টো ডেটা-লোকালাইজেশন বলেছে) উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির অপরাধে জেলে উঠিয়ে শুধু জরিমানা রাখা হয়েছে। গুগল মেটা মাস্টারকার্ড উবারসহ সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সম্মিলিত আপত্তিতে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় সংশোধন হয়েছে।



কিন্তু আগে-পরে আইন তৈরির সময় ফেসবুক (মেটা) অন্তত পাঁচবার একই বিষয় নিয়ে চাপ তৈরি করেছে : শিশুর বয়স ১৮ থেকে কমাতে হবে। এই প্রশ্ন তারা তুলেছে উচ্চপর্যায়ের সরকারি বৈঠক, ইউএস অ্যাম্বেসির আয়োজিত প্ল্যাটফর্মগুলোর আলোচনায়, দ্বিপক্ষীয় মিটিংয়ে। আমরা বারবার বলেছি, শিশুর বয়সের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা আইসিটির এখতিয়ারে নেই; বরং অন্য মন্ত্রণালয়ের জুরিশডিকশনে। বাংলাদেশে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় রয়েছে যা ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ নামে পরিচিত। ফলে এ-সংক্রান্ত আইন সংশোধনও তাদের এখতিয়ার। কিন্তু মেটা কখনোই পরিষ্কারভাবে বলেনি, কেন এই পরিবর্তন এত জরুরি।


এখানেই আমাদের সন্দেহ গভীর হয়। বাংলাদেশে মেটা প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ৭০ থেকে ৭৩ মিলিয়নের মধ্যে (NapoleonCat, DataReportal, ২০২৫), কিছু পরিসংখ্যানে প্রায় ৮০ মিলিয়ন। মেটার নীতিমালা অনুযায়ী ১৩ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি নেই, কিশোর ব্যবহারকারীদের প্রধান গ্রুপটি হলো ১৩-১৭ বছর বয়সি। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ব্যবহারকারীর ডেমোগ্রাফি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ৮-১২ শতাংশ এই বয়সসীমার মধ্যে পড়ে। তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে, শতাংশের হারে বাংলাদেশে ন্যূনতম প্রায় ৬-৮ মিলিয়ন (৬০-৮০ লাখ) কিশোর ব্যবহারকারী মেটা প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়, যাদের বয়স ১৮ হয়নি। অর্থাৎ বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিসরে লক্ষ লক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর ছবি, ভিডিও, আচরণগত তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগের ডেটা নিয়মিতভাবে প্ল্যাটফর্মে জমা হচ্ছে, যা শিশুদের ডেটা সুরক্ষা, প্রোফাইলিং এবং এআই প্রশিক্ষণে এই তথ্য ব্যবহারের প্রশ্নকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে পরিণত করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ