ঢাকা , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র উত্তরণের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-১৪ ১২:৫৫:৪৪
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র উত্তরণের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র উত্তরণের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হলেও দেশটির সরকার পতন করা সম্ভব হয়নি। উল্টো হরমুজ প্রণালীতে শক্ত অবস্থান নিয়ে ইরান এখন পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে এই যুদ্ধের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী বিমান যুদ্ধের পর দেখা যাচ্ছে, ইরান বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গর্ব করা উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল ভোরে মার্কিন-ইসরাইল হামলার প্রথমদিনে তেহরানের আকাশে প্রথম কালো ধোঁয়া দেখার সময় পরিস্থিতি যেমন ছিল, এখন তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। কয়েক বছরের গোয়েন্দা তৎপরতা ও পরিকল্পনার পর ইরানের রাজধানীতে একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। এতে দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক রবার্ট পেপ তার ‘বোম্বিং টু উইন’ বইয়ে লিখেছেন, রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র লড়াইয়ে এ ধরনের কৌশল কখনোই কার্যকর হয়নি।

ইরানও এ বিষয়ে সচেতন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমাদের পূর্ব ও পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন বাহিনীর পরাজয় আমরা গত দুই দশক ধরে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষা নিয়েছি।’

খামেনির মৃত্যুর পর ইরান দ্রুতই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ দিয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব হারালেও দেশটির বিকেন্দ্রীকৃত ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ কৌশলের কারণে সামরিক কমান্ড ভেঙে পড়েনি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলি ভায়েজ বলেন, ‘কিছু সিনিয়র নেতাকে হারালেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো বেশ অটুট আছে।’

ভায়েজের মতে, তেহরান এখন তিন স্তরের কৌশল প্রয়োগ করছে। প্রথমত টিকে থাকা, দ্বিতীয়ত পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রাখা এবং তৃতীয়ত যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা, যাতে তারা নিজেদের শর্তে এটি শেষ করতে পারে।

এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে। যুদ্ধ যত বাড়ছে, বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় তত দ্রুত বাড়ছে।

ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও সস্তা ড্রোন দিয়ে দুবাইয়ের মেরিনা ও সাগরে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধ এখন তুরস্ক, সাইপ্রাস ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালী প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

এই পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে।

এই যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচল থমকে গেছে এবং বিদেশিরা উপসাগরীয় অঞ্চল ছাড়ছেন।

তেল আমদানিকারক দেশগুলো তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছেড়েও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারছে না।

কেনিয়ার চা বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া ও জাহাজ ভাড়ার সঙ্গে বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায়, তাদের গুদামে চায়ের বিশাল মজুত অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ