ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​হাকালুকি হাওরে জলচর পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রথমবারের মতো দেখা মিলল রাজহাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-০৯ ২৩:০৫:৪৯
​হাকালুকি হাওরে জলচর পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রথমবারের মতো দেখা মিলল রাজহাঁস ​হাকালুকি হাওরে জলচর পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রথমবারের মতো দেখা মিলল রাজহাঁস

এস. এম. জালাল উদদীন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ

পোর্টঃ এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি খ্যাত হাকালুকি হাওরে এবার জলচর পাখির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের শুমারিতে মোট ৫৩ প্রজাতিমৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে মাহফুজ শাকিল রির ৫৪,৪৮৬টি জলচর পাখি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮টি স্থানীয় ও ৩৫টি পরিযায়ী প্রজাতির।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও খ্যাতনামা পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক জানালেন, হাওরে এবার বিষটোপ ও নিষিদ্ধ জালে আটকে মারা পাখির দেখা প্রায় হয়নি। এর ফলে আগের বছরের তুলনায় পাখির সংখ্যা বেড়েছে। হাওরের কিছু বিল, যেমন চিনাউরা ও হাওরখাল, তুলনামূলকভাবে বেশি পানি থাকার কারণে পাখিদের আকৃষ্ট করেছে।
বার্ড ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আলম দীপু জানান, এবার হাকালুকি হাওরে একটি বিরল প্রজাতির সাদা কপাল রাজহাঁসের দেখা মিলেছে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো হাওরে মোট ১৯৪টি রাজহাঁস পর্যবেক্ষিত হয়েছে, যা বাংলাদেশে বিরল ঘটনা। উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য সৈকত পাখির সংখ্যা ও হাওরে পর্যবেক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

হাওরের মোট আয়তন প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর, যা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উপর বিস্তৃত। সরকার ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া) ঘোষণা করে।

পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, দেশে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমছে। প্রধান দুটি কারণ হলো পাখির আবাসস্থল কমে যাওয়া ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। হাওরে মাছ ও পাখি সংরক্ষণের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ জরুরি। এছাড়া কৃষকরা হাওরে ধানসহ অন্যান্য ফসলের জন্য অবাধে কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা মাছ ও পাখির প্রধান খাবার ফড়িংসহ পোকামাকড়কে নষ্ট করছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে সরকারের মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

এই শুমারি ও পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করছে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার মাধ্যমে হাকালুকি হাওরের জলচর পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিরল প্রজাতির রাজহাঁসসহ অন্যান্য পাখি সংরক্ষণ সম্ভব।

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ