আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শখের বশে শুরু করেছিলেন সূর্যমুখী চাষ। আর সেই শখই আজ হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বিতার পথ। রাজারহাট উপজেলার পীরমামুদ গ্রামের বাসিন্দা জ্যোতি সরকার সূর্যমুখী চাষ করে এখন এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক সূর্যমুখী ফুল যেমন মাঠজুড়ে ছড়িয়ে দেয় হলুদ রঙের মায়াবী আবহ, তেমনি এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল পূরণ করে দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার একটি অংশ। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে ও স্বল্প সময়ে সূর্যমুখী চাষ লাভজনক হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি ফসল।
জ্যোতি সরকার জানান, শুরুতে অল্প পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী আবাদ করেন তিনি। ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেলে পরবর্তীতে চাষের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। বর্তমানে তার ক্ষেতজুড়ে দোল খাচ্ছে হাজার হাজার সূর্যমুখী। প্রতিটি গাছে ভরপুর বীজ, যা থেকে মিলতে পারে উল্লেখযোগ্য লাভ।
তিনি বলেন, “আমি বিভিন্ন নার্সারিতে যেতাম, সেখানে সূর্যমুখী ফুল দেখে আমার বেশ ভালো লাগতো। শখ থেকেই শুরু করেছিলাম, এখন এই সূর্যমুখীই আমার বাড়তি আয় ও আমার পরিবারের চাহিদা পূরন করবে আশাকরি। খরচ কম, পরিচর্যাও সহজ। সময়মতো সার ও সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।”
প্রতিদিন বিকেল হলেই তার সূর্যমুখীর ক্ষেতে ভিড় জমায় আশপাশের মানুষ। অনেকে আসেন ছবি তুলতে, কেউ বা ভিডিও ধারণ করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে সেই হলুদ সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে অসংখ্য মৌমাছি, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় কৃষকরাও জ্যোতি সরকারের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। অনেকেই এখন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ জ্যোতি সরকারের জীবনে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। তার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যেতে পারে তেলবীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন।