ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রেজার আছে, ব্যবস্থাপনা নেই, অবহেলায় বিপজ্জনক পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-০১ ১২:২৮:৪০
ড্রেজার আছে, ব্যবস্থাপনা নেই, অবহেলায় বিপজ্জনক পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল ড্রেজার আছে, ব্যবস্থাপনা নেই, অবহেলায় বিপজ্জনক পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল
 
মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
 
পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনালে দীর্ঘদিন ধরে নব্যতা সংকট বিরাজ করলেও তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের দৃশ্যমানতা নেই। টার্মিনাল এলাকায় সারা বছর দুটি ড্রেজার মেশিন অবস্থান করলেও পল্টনসংলগ্ন নদীপথে চর জমে লঞ্চ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে যাত্রী নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল উভয়ই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
 
১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) এর উদ্যোগে লোহালিয়া নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত এই টার্মিনালটি যাত্রীসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিকবার সংস্কার করা হলেও বর্তমানে নাব্যতা সংকটে কার্যত সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।
 
টার্মিনালের চারটি পল্টনের মধ্যে দুটি পল্টনের সামনে প্রায় ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে চর জমে যাওয়ায় সেখানে লঞ্চ নোঙর করা বন্ধ রয়েছে। ফলে একসঙ্গে একাধিক লঞ্চ ভিড়লে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেখা যায়, BIWTA’র উপ-পরিচালকের কার্যালয় যে ভবনে অবস্থিত, তার সামনেই নদীর নাব্যতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। নদীতে ড্রেজার উপস্থিত থাকলেও পল্টনসংলগ্ন চ্যানেল নিয়মিতভাবে কাটা হচ্ছে এমন কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
 
বর্তমানে দুটি পল্টনে সীমিতভাবে লঞ্চ নোঙর করা সম্ভব হলেও একসঙ্গে ৫ থেকে ৮টি লঞ্চ এলে নিরাপদ ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের লঞ্চ চরে আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
 
ঘাট এলাকায় একটি বড় লঞ্চ নোঙর করলেও অন্যান্য লঞ্চ নদীর মাঝখানে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে যা যাত্রী ওঠানামাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইন্তাজ খান বলেন, দুইটা ড্রেজার সারা বছর চোখের সামনে পড়ে থাকে, কিন্তু কাজের কোনো বাস্তব ফল দেখা যায় না। লঞ্চ বেশি এলে ঘাটে ঢুকতে গিয়ে চরে আটকে পড়ে। ড্রেজিংয়ের নামে এখানে লোক দেখানো কার্যক্রম চলছে বলেই মনে হয়। আগে একটি ড্রেজার দিয়েই পল্টন এলাকা পরিষ্কার রাখা যেত, এখন দুটি ড্রেজার থেকেও সেই ফল মিলছে না এটা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই ইঙ্গিত।
 
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাফর জানান, আগে এখানে ১০-১৫টি লঞ্চ ভিড়ত। এখন একটি লঞ্চ ঘোরানোই কঠিন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার একই এলাকায় অবস্থান করলেও কাঙ্ক্ষিতভাবে নাব্যতা ফিরে আসছে না।
 
পূবালী-১২ লঞ্চের মাস্টার মোঃ শুকুর আলী বলেন,  নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় ভাটায় লঞ্চ চরে আটকে যায়। এখানে একসঙ্গে কয়েকটি লঞ্চ এলেই ঘোরানো কঠিন হয়ে পড়ে। ঈদের আগে কার্যকরভাবে মাটি না কাটলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে।
 
স্থানীয়দের মতে, নদীতে পলি জমা স্বাভাবিক হলেও তা মোকাবিলায় ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ ড্রেজিং নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
 
এ বিষয়ে BIWTA পটুয়াখালী’র সহকারী পরিচালক জাকির শাহরিয়ার বলেন, ড্রেজিং সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলতে হবে, এ বিষয়ে আমার দায়ভার নেই। 
 
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এই বক্তব্য দায়িত্ব এড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কারণ টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, যাত্রী নিরাপত্তা এবং নৌযান নোঙরের উপযোগিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব BIWTA’র স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়।
 
তিনি আরো বলেন, ঈদের মৌসুমে অতিরিক্ত লঞ্চ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নাব্যতা নিশ্চিত করতে রক্ষণাবেক্ষণমূলক ড্রেজিং করা হবে।
 
তার মতে, পল্টন এলাকায় নদীর তলদেশে মাটি জমা হওয়া একটি চলমান প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করতে হয়।
 
তবে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট অব্যাহত থাকায় কার্যকর তদারকি ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রেজার উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যদি পল্টনসংলগ্ন চ্যানেল ব্যবহারযোগ্য না থাকে, তবে তা কেবল প্রাকৃতিক কারণ নয় বরং ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও নজরদারির ঘাটতির প্রতিফলন হতে পারে।
 
সামনে আসছে ঈদ মৌসুম, যখন যাত্রীচাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর আগেই নাব্যতা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে লঞ্চ সংঘর্ষ, চরে আটকে পড়া এবং যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি বড় ধরনের নৌ দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ