ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ , ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২৮ ১৫:১০:৪৪
নরসিংদীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলন নরসিংদীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা নামে এক কিশোরীকে একাধিকবার গণধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় এজহারনামীয় ৯ আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী রক্ষাকারী বাহিনী।
 
বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আজ বেলা ১১টায় নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
 
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গতকাল শুক্রবার রাত ৯টায় এ মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে (২৮) গাজীপুরের মাওনা থেকে এবং হযরত আলীকে (৪০) ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ও ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে পাঁচ আসামিকে র‍্যাব ও জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাধবদী থানার কোতোয়ালি এলাকার হোসেন বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ৪ আসামি ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং বাকি পাঁচ আসামি বিচার-সালিশ করায় অভিযুক্ত।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা (২৮), ওবায়দুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০) ও গাফফার (৩৭) গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নিহত আমেনাকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে হোসেন বাজার এলাকার চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়।

পরবর্তীকালে চৈতি মিলের ব্যবস্থাপক শ্যামলের মাধ্যমে বিষয়টি নিহত আমেনার মা আফিয়া বেগম জানতে পেরে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে (৬৫) জানালে তিনি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় আহাম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০) মিলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আমেনার পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

এতে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় খালার বাড়িতে রেখে আসতে ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাত প্রায় সারে ৯টার দিকে আমেনাকে সঙ্গে নিয়ে তার সৎবাবা আশরাফুল রওয়ানা দিলে কোতোয়ালীর চর করইতলা তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে একই আসামিরা বাবার সামনে থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।

রাতে অনেক খোঁজাখোঁজি করেও আমেনাকে আর পাওয়া যায়নি। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সালে ৯টায় কোতোয়ালির চর দরিকান্দি এলাকার জাকির হোসেন নামে এক কৃষকের সরিষাক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনার লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে চার আসামি পালাক্রমে ধর্ষণ শ্বাসরোধে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে নিহত আমেনার (১৫) মা আফিয়া বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ২৬ ফেব্রুয়ারি চারজন ও ২৭ ফেব্রুয়ারি একজন এবং সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা ও হযরত আলীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মোট সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।






 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ