ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, সেখানেই চলছে দাঁড়ি-চুল কাটার প্রাচীন পেশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২৪ ১৬:৩২:৩২
একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, সেখানেই চলছে দাঁড়ি-চুল কাটার প্রাচীন পেশা একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, সেখানেই চলছে দাঁড়ি-চুল কাটার প্রাচীন পেশা
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
  
উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামের গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে গেলে চোখে পড়ে এক ভিন্ন জীবনের গল্প। নেই ঝকঝকে সেলুন, নেই বাহারি চেয়ার, কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ। খোলা আকাশের নিচে, মাটির ওপর একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, সেখানেই চলছে দাঁড়ি-চুল কাটার প্রাচীন পেশা।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার চর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রায় তিন শতাধিক নরসুন্দর ভ্রাম্যমানভাবে খোলা আকাশের নিচে সেলুন বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সপ্তাহের নির্দিষ্ট হাটের দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারের কোলাহলের মাঝেই চলে তাদের কর্মযজ্ঞ।
 
সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে গেলে দেখা যায়, প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন নরসুন্দর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন। কারও হাতে কাঁচি, কারও হাতে ক্ষুর। পাশে একটি আয়না, ছোট ব্যাগে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, এই সামান্য আয়োজনেই চলছে সংসারের চাকা। 
 
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর থেকে আসা মোঃ তারা মিয়া চুল কাটাতে কাটাতে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সেলুনে গেলে ৫০-৭০ টাকা লাগে। এখানে ২৫-৩০ টাকায় হয়ে যায়। কাজও খারাপ না।
 
একই ইউনিয়নের ঝুনকার চর থেকে আসা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের চরে তো কোনো সেলুন নাই। আমরা এই হাটে এসে চুল-দাঁড়ি কাটি। টাকাও কম লাগে, কাজও ভালো।
 
নরসুন্দর মোঃ কাশেম আলী জানান, এটি আমার বাপ-দাদার পেশা। অন্য কোনো কাজ শেখার সুযোগ হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়েই চলে সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও ওষুধের খরচ।
 
কুড়িগ্রাম নরসুন্দর সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র বলেন, ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিলের খরচ না থাকায় তারা কম টাকায় কাজ করতে পারেন। কিন্তু আয় খুব সীমিত। হাটের দিনের ওপর নির্ভর করে আয়-রোজগার। বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে আয় আরও কমে যায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ