আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ-
একদিকে ফসলী জমির মাটি কেটে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, মাটি বহনকৃত অবৈধযান বেপরোয়া ট্রাক্টর ট্রলির অবাধ চলাচলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, কোমলমতি শিশুদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সাথে নতুন নতুন রাস্তা টেম্পার হারাচ্ছে। চলতি এ প্রতিবেদনে ২০১০ সালের ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মাঠের কৃষি জমি সাবাড় করে নিজের নামই বদলে ফেলেছে অভিযুক্ত যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৪ নং দূর্বাডাংগা ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের জামসেদ গাজীর ছেলে মোঃ শিমুল গাজী ওরফে "স্কো শিমুল"।
অনুসন্ধান বলছে,মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের অব্যাহত অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এমনকি দূর্বাডাংগা ইউনিয়নের কয়েকটি জরিমানা ও মাটি কাটার স্কোভেটর জব্দে মাঠি কাটার আগ্রাসন বন্ধ হলেও একমাত্র শিমুল মাটি কাটার কার্যক্রম চলমান রাখায় স্থানীয়রা তাকে একনামে "স্কো শিমুল" জানে বলে নামের আগে স্কোভেটর যোগের নেপথ্যের এ কারন জানিয়েছে নাম পরিচয় গোপন করা স্থানীয় এক যুবক।
শুধু মাটি কাটা নই তথ্য আছে,শিমুলের স্থানীয় উঠতি বয়সী যুবকদের তার্গেট করে তাদের দিয়ে মাদকব্যবসাও পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। শিমুল নিজেও এলাকার একজন চিহৃত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী বলে চলতি এ তথ্য নিশ্চিত করে যশোর জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর হতে জানা গেছে যে,সম্প্রতি তাদের কাছে বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয়েছিলো এই শিমুল। যার মামলা এখনো চলমান আছে।
একাধিক অপরাধ করে চললেও শিমুলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কোন কথা বলতে পারেনা। অথচ শ্যামনগর,কুশখালি,দাসেরহাট,কোনাখোলার স্থানীয় ছোট থেকে বয়স্করা পর্যন্ত স্কো শিমুলকে এক নামে চেনে! কিন্ত বিগত দিনের তথ্য বলছে,এই শিমুলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের উপর হামলা করে মারাত্মক আহত করেছিলো। এ ছাড়াও এলাকাবাসীর উপরেও ইতিপূর্বে আতর্কিত হামলা হওয়ার কারনে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলেনা,নীরবে দেখে সহ্য করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।
তবে মাস খানেক আগে এই শিমুলের বিরুদ্ধে মাটিকাটার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাদক দিয়ে ফাসানোর হুমকি দিলে উপজেলা প্রশাসনের চাপে মাটি কাটা বন্ধ রাখলেও নির্বাচনের পরের দিন এমনকি ১৯শে ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবারেও স্কো শিমুলের মাটি কাটা স্কো চলেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য এ তথ্যসূত্র। এদিকে ১৭ই ফেব্রুয়ারী সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন দূর্বাডাংগা ইউনিয়নে অভিযান দিয়ে দাসেরহাট বাজারের নিকটবর্তী একটি স্পট থেকে ২টি স্কোভেটর জব্দ করলেও পাশেই শিমুলের মাটি কাটা স্কো চলমান থাকলেও সেদিকে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে চলে আসাতে অভিযোগ উঠেছে যে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলাতে তার কাজ বন্ধ হয়না।
অনুসন্ধানী টিমের কাছে অভিযোগ আছে যে,সম্প্রতি দূর্বাডাংগা ইউনিয়নে নতুন নির্মিত কয়েকটি পাকা সড়কের উপর দিয়ে নিয়মিত মাটি বহনকারী ট্রলি হতে পড়ে যাওয়া মাটি রাস্তা টেম্পার হারাচ্ছে।এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ক্যামিক্যাল তাপমাত্রা হারিয়ে উঠে যাবে এমনকি ভাংগন দেখা দিবে বলে জানিয়েছেন চিনেটোলা হতে কোনাকোলা বাজার পর্যন্ত পাকা রাস্তার কাজ করা ঠিকাদারাী প্রতিষ্ঠান যশোর চাচড়ার বনান্তর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার।
এতকিছুর পর প্রশ্ন থেকে যায় শিমুলের অপ্রতিরোধ্য অপরাধের পেছনে কে বা কারা আছে! তথ্য আছে,ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আলতাফ হোসেনের সহচর হয়ে দীর্ঘদিন এ সমস্ত অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থেকে সম্প্রতি মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের টিমের কাছে ১৫'শ পিচ ইয়াবা সহ ধরা পড়লে আলতাফ হোসেন শিমুলকে এসব বন্ধ করতে বললে তাকে এড়িয়ে যায় শিমুল। এরপর স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা মোঃ নজরুল ইসলামের কাঁধে ভর করে বর্তমানে তার কার্যক্রম চলমান রেখেছে।
গোপন সূ্ত্রের তথ্য বলছে, নজরুলের ছত্রছায়ার কারনে স্থানীয় শক্তির সাথে ভূমি অফিসের যে কোন ব্যাক্তির অর্থনৈতিক যোগসাজসে দিন গেলেই আরো আগ্রাসী হয়ে উঠছে শিমুল গাজী ওরফে স্কো শিমুল।
এ বিষয়েে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান,তাকে এর আগে একবার নিষেধ করা হয়েছে,ব্যবস্থা নেওয়া হবে।