ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাউখালীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার, ফলে শ্রদ্ধা জানাতে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০২-১৯ ০০:১৪:৪৩
কাউখালীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার, ফলে শ্রদ্ধা জানাতে বঞ্চিত হচ্ছে  শিক্ষার্থীরা কাউখালীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার, ফলে শ্রদ্ধা জানাতে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
 
 কাউখালী প্রতিনিধি। 
 
 পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও নির্মিত হয়নি কোনো শহীদ মিনার। ফলে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ বা কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।
 
উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার নেই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরও নাজুক।
 স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
 
এছাড়া নিজস্ব আঙিনায় শহীদ মিনার না থাকায় নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
 
 প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে মাটি বা কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী মিনার তৈরি করে, যা উৎসব শেষে অযত্নে পড়ে থাকে।
 
উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান,বাজেটের অভাবে আমরা শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারছি না। সরকারিভাবে বরাদ্দ না পেলে  স্কুলগুলোর পক্ষে নিজস্ব অর্থায়নে এটি করা সম্ভব নয়।
 কাউখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাজিন সিকদার বলেন, আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নেই। আমরা টিভিতে দেখি বড় বড় মিনারে ফুল দেয়, কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ হয় না। আমরা চাই আমাদের স্কুলেও একটা সুন্দর শহীদ মিনার থাকুক।
 
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে অথবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এই সমস্যা সমাধান করা জরুরি।
 
কাউখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান জানান, উপজেলার ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১২টি মাদ্রাসায় কোন শহীদ মিনার নেই, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিবুর রহমান জানান, উপজেলার ৪৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কোন শহীদ মিনার নেই।এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ