আজ জহির রায়হানের প্রয়াণ দিবস সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে প্রতিবাদের ভাষা গড়ে তোলা এই স্রষ্টাকে স্মরণ
আপডেট সময় :
২০২৬-০১-৩০ ২১:৪৮:০৭
আজ জহির রায়হানের প্রয়াণ দিবস সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে প্রতিবাদের ভাষা গড়ে তোলা এই স্রষ্টাকে স্মরণ
মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু
আজ ৩০ জানুয়ারি। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বল বুদ্ধিজীবী জহির রায়হান–এর প্রয়াণ দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার মিরপুর এলাকায় নিখোঁজ হন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর নিখোঁজ হওয়ার রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি।
জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাহিত্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম প্রথাবিরোধী স্রষ্টা। লেখালেখি ও চলচ্চিত্র নির্মাণে সামাজিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং প্রতিবাদের ভাষা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাঁর কাজের মূল বৈশিষ্ট্য।
সাহিত্যে বাস্তবতার শক্ত অবস্থান
জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যে পরিচিতি পান
কথাসাহিত্যিক হিসেবে। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘বরফ গলা নদী’। এসব রচনায় গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, শোষণ, দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাস্তবধর্মী ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর সাহিত্যকর্মে রোমান্টিকতার চেয়ে সমাজ ও সময়ের দায়বদ্ধতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক প্রতিরোধ
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে জহির রায়হানের নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয় তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র
‘জীবন থেকে নেয়া’–এর জন্য। ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। চলচ্চিত্রটি শুধু শিল্পমূল্য নয়, রাজনৈতিক তাৎপর্যের কারণেও আজও আলোচিত।
মুক্তিযুদ্ধ ও নিখোঁজ হওয়া
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জহির রায়হান সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেন। তাঁর ভাই, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক শহীদুল্লাহ কায়সার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হন। স্বাধীনতার পর ভাইয়ের সন্ধানে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুর এলাকায় গেলে সেখান থেকে জহির রায়হানও নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনুসন্ধান চালানো হলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও স্মরণ
জহির রায়হান বাংলাদেশের সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য মরণোত্তর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি লাভ করেন। প্রতিবছর তাঁর প্রয়াণ দিবসে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, স্মরণ অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে থাকে।
প্রাসঙ্গিকতা আজও অমলিন
সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, জহির রায়হানের কাজ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্নে তাঁর সাহিত্য ও চলচ্চিত্র বর্তমান সময়েও গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করা মানে কেবল একজন স্রষ্টাকে স্মরণ করা নয়—এটি সত্য, প্রতিবাদ ও নৈতিক সাহসের প্রতি দায়বদ্ধতার পুনর্ব্যক্তি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স