ঢাকা , শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২‌ আসনে ভোটের অঙ্কে চতূর্মূখী লড়াই


আপডেট সময় : ২০২৬-০১-২৪ ১৮:১৬:০৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২‌ আসনে ভোটের অঙ্কে চতূর্মূখী লড়াই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২‌ আসনে ভোটের অঙ্কে চতূর্মূখী লড়াই
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম-০২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ি) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে বড় দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, অন্যদিকে আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও জোট রাজনীতির সমীকরণ, সব মিলিয়ে এই আসনটি পরিণত হয়েছে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ক্ষেত্র হিসেবে।
 
এই আসন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও  মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) এবং ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রত্যেকেই নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
 
বিএনপি'র প্রার্থী মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলটি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে থাকায় এ আসনে তাদের একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংক রয়েছে।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে বিএনপি এ আসনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুগুলো সামনে আনছেন।
 
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ পনির উদ্দিন আহমেদ এ আসনে পরিচিত মুখ। তিনি উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী রাজনীতির কথা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছেন। তার প্রচারণায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
 
জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, অতীতে দলটির নির্বাচনী উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক ভিত্তি এ আসনে তাদের জন্য একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপন্থী ও উন্নয়নমুখী ভোটারদের কাছে পনির উদ্দিন আহমেদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
 
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ নুর বখত নৈতিকতা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বার্তা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সুশাসন এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।
চরমোনাইপন্থীরা মনে করছেন, সমাজের একটি অংশ বিশেষ করে তরুণ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। যদিও বড় দলগুলোর তুলনায় সাংগঠনিক শক্তি সীমিত, তবুও আদর্শিক রাজনীতির কারণে এই প্রার্থী ভোটের ব্যবধান কমাতে সক্ষম হতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
 
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. আতিক মুজাহিদ জাতীয় ঐক্য ও জোট রাজনীতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তিনি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির কথা তুলে ধরছেন।
 
জোট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারবিরোধী ভোট বিভাজন রোধ এবং একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে সীমিত প্রচারণা থাকলেও কিছু এলাকায় জোটটির সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
 
এবার কুড়িগ্রাম ০২ আসনে থেকে মুল প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ জন প্রার্থী ছাড়াও মাহমুদুর রহমান মান্নার দল নাগরিক ঐক্য থেকে কেতলি মার্কা নিয়ে মাঠে আছেন মেজর অব: মোঃ আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির রাজা, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী।
 
কুড়িগ্রাম-০২ আসনের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা স্পষ্ট।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তের জোট সমীকরণ এবং প্রচারণার গতির ওপর। বড় দলগুলোর পাশাপাশি আদর্শভিত্তিক ও জোট প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তিও চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
 
সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম-০২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি বহুমাত্রিক ও গুরুত্ববহ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে। এখন অপেক্ষা ভোটের দিন জনগণ কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ