আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থিত ভাসমান তেল ডিপো যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বার্জ দুটিতে প্রায় ৮ বছর ধরে তেল শূন্য থাকায় বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এর ফলে এ এলাকার কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডিলাররা পার্বতীপুর ও রংপুর ডিপো থেকে তেল এনে সরবরাহ করায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনে জমিতে সেচ দিচ্ছেন।
জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির দুটি ভাসমান তেল ডিপো স্থাপন করা হয়। এ ডিপো দুটি থেকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো। ডিপো দু’টিতে অনুমোদিত ২২ জন ডিলার সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল ক্রয় করে এসব এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন।
২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং ২২ ফেব্রুয়ারি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের তেল শেষ হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮ বছর ধরে ডিপো দু’টিতে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই ভাসমান তেল ডিপো দু’টি থেকে চিলমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, নারায়নপুর, যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা, রৌমারী, রাজিবপুর, গাইবান্ধা জেলার সানন্দবাড়ী, জাফরগঞ্জ, কামারজানি, পাশাপাশি লালমনিরহাট, রংপুর, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সেচ মৌসুমে তেল সরবরাহ করা হতো।
কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, জমি চাষের ট্রাক্টর, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত জেনারেটর, মাহেন্দ্র গাড়ি, নছিমন-করিমনসহ নানা যানবাহন পরিচালনার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে জমি চাষ ও সেচ কার্যক্রমে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন হয়।
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাসমান ডিপোটি স্থায়ী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের একটি টিম প্রায় দুই বছর আগে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছে।
মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় তেলবাহী জাহাজ আসতে পারছে না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০২ টাকা হলেও তা মানা হচ্ছে না।
তেল ব্যবসায়ী মোঃ জোবাইল ইসলাম সুইট ও মোঃ মাঈদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, রংপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে তেল আনতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় গত ৮ বছর ধরে বেশি দামে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা দ্রুত ডিপো দুটিতে তেল সরবরাহ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রমনা মডেল ইউনিয়নের কৃষক মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, ভাসমান তেল ডিপো থেকে তেল কিনলে খরচ কম হতো। এখন ডিপোতে তেল না থাকায় বেশি দামে বাজার থেকে তেল কিনে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে তেল কেনার ফলে শাকসবজিসহ ফসলের দামও বেড়ে যাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রিয়াজুল হক জানান, ডিপোটি স্থায়ী করার বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপকের কাছে তেল সরবরাহের জন্য চিঠি দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আগামী বোরো মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় পড়েছেন।