আমলনামা ২০২৫ সরকারে জবাবদিহিতার কালচার চালু করা আবশ্যক
আমলনামা ২০২৫ সরকারে জবাবদিহিতার কালচার চালু করা আবশ্যক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারে জবাবদিহিতার কালচার চালু করা আবশ্যক। এর জের ধরে এই বছরের মাঝামাঝি আমরা একবার আমাদের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছিলাম। সেই একই উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা সারা বছরের রেজাল্ট প্রকাশ করলাম। রেজাল্ট আমাদের পুরোপুরি মনমতো হয়নি। কিন্তু এতটুকু বলতে পারি, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সম্পূর্ণ রেজাল্ট কার্ডটির লিংক নিচে দেয়া হলো।
বিডা পাশ না ফেল করলো এটার মিডিয়া ট্রায়াল হয় এফডিআই দিয়ে। এটা দুঃখজনক। প্রথমত, নতুন বিদেশী বিনিয়োগ আসাকে ফেসিলিটেট করা আমাদের অনেক কাজের মধ্যে একটা। আর এফডিআই বৃদ্ধি-হ্রাসের পেছনে অনেক ফ্যাক্টর কাজ করে যার ক্রেডিট বা রেসপনসিবিলিটি কোনোটাই বিডার প্রাপ্য না। যাহোক, সবার জ্ঞাতার্থে আবার বলছি: গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে বাংলাদেশের এফডিআই বেড়েছে শতকরা ২০ ভাগ। এটা অন্যান্য দেশের তুলনায় একটা বিরাট ব্যতিক্রম। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে এফডিআই অনেক ড্রপ করে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ডাটা নিয়ে করা পোস্টটা লিংক এ দিলাম।
বিডার মূল কাজ হলো বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ জন্য আমরা ২০০+ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে ৩২টি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছিলাম। এর মধ্যে ২৪টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। ৭টি আংশিক সম্পন্ন হয়েছে। একটি পদক্ষেপ পরবর্তী সরকার আসা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি মুলত ৪টি ক্ষেত্রে:
১. প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও সমন্বয়
২. বিনিয়োগ নীতি ও সেবার আধুনিকায়ন
৩. বিনিয়োগ আকর্ষণ
৪. খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল
#১ প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও সমন্বয়
* বিডা’র পুরোদস্তর প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে বিনিয়োগ লাইফ সাইকেল এর সাথে সামঞ্জস্য কাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন যোগ্যতার ভিত্তিতে বেসরকারি পেশাজীবীরা ও বিডা'র নিজস্ব কর্মকর্তারাও বিডা’র নির্বাহী সদস্য হতে পারবেন। নেতৃত্বের পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ আগে শুধুমাত্র প্রশাসন ক্যডারের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বিডা’য় নতুন যোগ হয়েছে গবেষণা শাখা, প্রবাসী বিনিয়োগকারিদের জন্য ডেস্ক এবং রিলেশনশিপ ম্যানেজার।
* সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় নিশ্চিত করতে বিডা’র নেতৃত্বে সংস্থাগুলোর সাথে নিয়মিত সভা করছে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
* দেশের একাধিক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা একীভূত করে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ সংস্থা ও সমন্বিত স্ট্র্যাটেজি গঠনের কাজ চলমান আছে।
#২ বিনিয়োগ নীতি ও সেবার আধুনিকায়ন
* অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে যার সুবিধা পাচ্ছে দেশের ১০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। তাদের ২০% পণ্যের শুল্কায়ন সম্পন্ন হয় শারীরিক পরীক্ষা ছাড়া গ্রীন চ্যানেল-এর মাধ্যমে। আরও ১১০টি প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার জন্য আবেদন করেছে।
* আংশিক রপ্তানিকারকদের জন্য বন্ড সুবিধা চালু করা হয়েছে। বস্ত্রের বাইরে অন্যান্য খাতের আংশিক রপ্তানিকারকরা, বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তারা, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা পাচ্ছেন, যা আগে শুধুমাত্র বৃহৎ রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রযোজ্য ছিল।
* ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন সহজ করতে জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনার বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। স্টার্টআপের জন্য আলাদা নীতিমালা ও মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
#৩ বিনিয়োগ আকর্ষণ
* বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন ও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ইত্যাদি দেশের বিনিয়োগকারিদের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রকল্প নিবন্ধনের বাইরে অতিরিক্ত $১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।
* প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণের কাজে উদ্বুদ্ধ করতে এফডিআই প্রণোদনা স্কিম চালু করার কার্যক্রম চলছে।
* নির্ভরযোগ্য তথ্য সেবা চালু করতে বিডা’র ওয়েবসাইট নতুন করে তৈরি করা হয়েছে।
#৪ খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল
* বিশ্বখ্যাত এপিএম টার্মিনালস এর সাথে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাদের আসন্ন ৬,৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ দেশের বৃহত্তম ইউরোপীয় এফডিআই যা আমাদের বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪৪% বৃদ্ধি করবে।
* আন্তর্জাতিক মানের ফ্রি ট্রেড জোন FTZ বাস্তবায়নে স্থান নির্ধারণ, সম্ভাব্যতা যাচাই ও রোডম্যাপ প্রণয়নে বেজার নেতৃত্বে কমিটির প্রস্তাব মন্ত্রীসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। পাশাপাশি যাচ্ছে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন জোনের প্রস্তাব।
* বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশন এর অচল কারখানাগুলোর মধ্যে ২০টি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি লিজে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ১৩টি লিজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৭টি মিলে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
সব সমস্যা ও হয়রানির ক্ষেত্রগুলো (যেমন, আইন ব্যবস্থা) অ্যাড্রেস করা যায়নি। অনেক সময় লাগবে। ২০২৫ এর মত প্রতি বছর যদি আমরা কিছু ইস্যু সলভ করি, তাহলে একসময় দেশে বিনিয়োগ করাটা অনেক সহজতর হবে। ২০২৬ এর কার্যক্রমের লিস্টটা আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের আগেই তৈরি করে যাবার চেষ্টা করছি। নিচের ছবিটা দেশী ব্যবসায়ীদের সাথে এরকমই একটা অনুষ্ঠানের।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স