ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাণীশংকৈলের কৃতি সন্তান ছাত্রজীবন থেকেই ন্যায় ও আদর্শে অটল-তর্কে জড়ানো সেই ডা.ধনদেব


আপডেট সময় : ২০২৫-১২-০৯ ২২:৪৯:০২
রাণীশংকৈলের কৃতি সন্তান ছাত্রজীবন থেকেই ন্যায় ও আদর্শে অটল-তর্কে জড়ানো সেই ডা.ধনদেব রাণীশংকৈলের কৃতি সন্তান ছাত্রজীবন থেকেই ন্যায় ও আদর্শে অটল-তর্কে জড়ানো সেই ডা.ধনদেব
মাহাবুব আলম,রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ধনদেব বর্মন। কিন্তু এই ডাক্তার শুধু এ ঘটনার জন্য পরিচিত নন—নিজ এলাকায় তিনি বরাবরই একজন শিক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ, পরোপকারী ও মেধাবী মানুষ হিসেবে সমাদৃত।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা টেপরী বেওয়ার নিবাসেই জন্ম নেন ধনদেব। মৃত বানেশ্বর বর্মনের ছয় সন্তানের একজন তিনি—চার ভাই ও দুই বোনের পরিবার। পরিবারটির সদস্যরা সবাই সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ধনদেব একজন উচ্চশিক্ষিত পরিবারের ছোট সন্তান। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে; মেয়ে বর্তমানে মেডিকেলে অধ্যয়নরত।

স্কুল জীবনেই তার মেধা ও সাহসিকতা তাকে বিশেষ পরিচিতি দেয়। ব্যতিক্রম হিসেবে তিনি হিন্দু ধর্মের পরিবর্তে ইসলাম ধর্মের বই পড়তেন—যা একসময় এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন,ধনদেব ছিল দুর্দান্ত মেধাবী। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম পড়েছে এবং এসএসসিতে ইসলাম ধর্মে লেটার মার্কস পেয়েছিল। সে কখনো রাজনীতি করত না, অন্যায়ও করত না। খুব প্রিন্সিপলড ছাত্র ছিল।”
তার বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক বিনোদ বর্মন জানান,ছাত্রজীবনে সে যেমন ভালো পড়াশোনা করতো, তেমনি ছিল চমৎকার ফুটবলার। মেডিকেল কলেজসহ কোথাও সে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি। ধনদেব যে ন্যায়বাদী—এটা আমাদের এলাকায় সবাই জানে।”

ধনদেব তার প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন বলদানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।
পরবর্তীতে রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি, এরপর রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।
পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য বিসিএস এ উত্তীর্ণ হন।
সর্বশেষ তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওটি বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রসঙ্গত: গত ৬ ডিসেম্বর DGHS-এর মহাপরিচালক মো. আবু জাফর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলে জরুরি বিভাগ, ওটি ও রোগীসেবা বিষয়ক বিভিন্ন ত্রুটি উল্লেখ করেন।
এসময় ডা. ধনদেব বর্মন জনবলযে-সংকট, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এই আলোচনা থেকে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাটি ভিডিওসহ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার জেরে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়।পরদিন তিনি লিখিতভাবে তার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ঘটনার পর তার গ্রামের মানুষ, সহপাঠী, শিক্ষক সবাই সামাজিক মাধ্যমে তার পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন।

তাদের মতে,“ডা. ধনদেব কোনোদিন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। তিনি ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও মানবিক একজন চিকিৎসক।”স্থানীয় জনমতে,“ ছেলে ছাত্রজীবন থেকেই ন্যায় ও আদর্শে অটল, সে অন্যায় করার মানুষ নয়”—এমন কথাই শোনা যাচ্ছে সর্বত্র।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ