ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম


আপডেট সময় : ২০২৫-১২-০৮ ১৫:৩০:৩৬
১২.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম ১২.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং ০৮:০১ এএম.

কুড়িগ্রাম জেলায় ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে পড়েছে। শীত বাড়তে শুরু করার পর থেকেই জেলার কর্মজীবী মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। বিশেষ করে নদী–বেষ্টিত বিভিন্ন অঞ্চলে দিনমজুর, জেলে, কৃষিশ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষজন ঠান্ডা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। সকাল থেকে তীব্র কুয়াশার চাপে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যায়। ফলে অনেক স্থানে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া বিভাগের তথ্যমতে, বেলা বাড়ার সঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। তাপমাত্রা কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, জ্বর, ফ্লু, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা এবং হুপিং কাশিতে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছাঃ আমেনা বেগম (৪০) জানান, কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে তার ছোট শিশুর জ্বর-সর্দি বেড়ে গেছে। তাই সকালে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই কুয়াশা আর ঠান্ডায় ছোট বাচ্চাগো নিয়ে খুব কষ্ট। ভোরে ঘর থেকে বের হইতে খুব সমস্যা হয়।’’

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার মোঃ মফিজুল হক (৫০) জানান, নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষ শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে। ‘‘শীত আসলে আমাদের কাজকাম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঘরের বাইরে বের হওয়া যায় না। দিনমজুরের কাজও পাই না। হাত–পা জমে আসে ঠান্ডায়,’’ বলেন তিনি।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন সংগঠন ও এনজিও সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কুড়িগ্রাম জেলায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় আরও ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন।

কুড়িগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘সর্দি-কাশি, ফ্লু, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা বা হাঁপানি এবং হুপিং কাশি এ সময় বেশি দেখা যায়। তাই সব সময় গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে। খুব প্রয়োজন ছাড়া শিশু ও বয়স্কদের বাইরে বের না হওয়াই ভালো।’’

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ছে এবং তাপমাত্রা কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ‘‘আজ সবনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা যত বাড়বে, শীতও তত তীব্র হবে,’’ বলেন তিনি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শীতের প্রকোপ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার মানুষ শীতের তীব্রতা মোকাবিলায় আগুন পোহানো, গরম খাবার খাওয়া ও গরম কাপড় ব্যবহারসহ নানা উপায়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে। তবে অনেক পরিবার পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। তাদের দাবি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ