ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উদযাপন — শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত


আপডেট সময় : ২০২৫-১১-২৯ ১৬:২৮:১১
পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উদযাপন — শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উদযাপন — শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু পঞ্চগড় প্রতিনিধি: 

ঐতিহাসিক ২৯ নভেম্বর। পঞ্চগড় পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হওয়ার এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো আজ শনিবার। পুরো জেলা জুড়ে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, বিজয়ের স্মৃতি আর মুক্তির আবেগ।

শনিবার ভোরে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, সঙ্গে ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।

শহরজুড়ে বের হয় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা স্মৃতি ফলক চত্বর হয়ে বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত।

পরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, স্বাধীনতার মূল্যবোধ এবং আগামীর প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানানোয় গুরুত্ব আরোপ করেন। বক্তৃতায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন—
পঞ্চগড় শুধু ভৌগোলিকভাবে নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল। অমরখানা ও তেঁতুলিয়া এলাকায় মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধযুদ্ধ পাক বাহিনীকে থামিয়ে দিয়েছিল। তেঁতুলিয়া সেই সময় পুরোপুরি মুক্ত অঞ্চল থাকায় মুক্তিযুদ্ধের নানা দিক-নির্দেশনা এখান থেকেই পরিচালিত হয়েছে।

ইতিহাস অনুযায়ী—
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর সারাদেশে পাকবাহিনীর আক্রমণ শুরু হলেও পঞ্চগড় ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্ত ছিল। ১৭ এপ্রিল সকালে পাক সেনারা পঞ্চগড় শহরে প্রবেশ করলেও তেঁতুলিয়ায় ঢুকতে পারেনি, কারণ মুক্তিবাহিনী আগেই চাওয়াই নদীর ব্রিজ ধ্বংস করে দেয়। ফলে পুরো যুদ্ধকাল তেঁতুলিয়া ছিল মুক্তাঞ্চল।

অপরদিকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে প্রতিদিনই মুক্ত হয় নতুন নতুন এলাকা। ২০ নভেম্বর অমরখানা, ২৫ নভেম্বর জগদলহাট, ২৬ নভেম্বর শিংপাড়া, ২৭ নভেম্বর আটোয়ারী-মির্জাপুরসহ আশপাশের অঞ্চলগুলো পাক দখলমুক্ত হয়।
অবশেষে ২৮ নভেম্বর রাতে পাক সেনারা দেবীগঞ্জ হয়ে পিছু হটতে থাকে। ২৯ নভেম্বর ভোরে পুরো পঞ্চগড় মুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণা আসে— ফিরতে থাকে স্বাধীনতার নিশান।

দিবসটি উপলক্ষে জেলার সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অম্লান রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ