ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে পুলিশ লাইন্সের পাশে কৃত্রিম বালির পাহাড়: অনুমোদনহীন ড্রেজার বাণিজ্যে জড়িত প্রভাবশালী চক্র


আপডেট সময় : ২০২৫-১১-১৩ ২০:০৩:২৩
সুনামগঞ্জে পুলিশ লাইন্সের পাশে কৃত্রিম বালির পাহাড়: অনুমোদনহীন ড্রেজার বাণিজ্যে জড়িত প্রভাবশালী চক্র সুনামগঞ্জে পুলিশ লাইন্সের পাশে কৃত্রিম বালির পাহাড়: অনুমোদনহীন ড্রেজার বাণিজ্যে জড়িত প্রভাবশালী চক্র
 
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে বিশালাকার ভিট বালির কৃত্রিম পাহাড়। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে সুরমা নদী থেকে বালি উত্তোলন করে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেলা হচ্ছে এসব বালি।

 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিট বালির এই পাহাড়ের মালিকানা রয়েছে পৌর শহরের আলোচিত ড্রেজার ব্যবসায়ী জগৎ দাসের। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক যুবদল নেতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 
সুনামগঞ্জ শহরের সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক সম্প্রসারণে প্রায় দেড় শত কোটি টাকার চারলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ‘জনজিবি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাটের কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত মাটি উত্তোলন বা সরবরাহের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 
তবে প্রকল্প এলাকায় যে বিপুল পরিমাণ বালি স্তুপ করা হয়েছে, তা চারলেন প্রকল্পের জন্যই আনা হচ্ছে—এমন দাবি করেছেন প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার গোলাম আজম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “স্তুপ করা বালি চারলেন প্রকল্পের কাজের জন্য এনেছেন জগৎ বাবু ও অলিউর সাহেব। অনুমতি আছে কিনা সেটা আমি জানি না।”

 
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জগৎ দাস বলেন, “আগে কিছুদিন ড্রেজার ব্যবসা করতাম। এখন করি না। ড্রেজার দেখলেই মানুষ ভাবে আমার। এই বালিও আমার না।”
তবে স্থানীয়রা বলছেন, সুরমা নদীর জলিলপুর ও ব্রাহ্মণগাঁওসহ একাধিক স্থানে জগৎ দাসের ড্রেজার এখনো সক্রিয়। বালির ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল বলেন, “চারলেন প্রকল্পে মাটি বা বালি সরবরাহের জন্য এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে সিদ্ধান্ত হয়নি।”
 
 
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিস্তার করে এক যুবদল নেতা ও কয়েকজন কর্মকর্তার অদৃশ্য সহযোগিতায় প্রায় ১৫ লাখ ঘনফুট বালি ও মাটি সরবরাহের কাজ নিজেদের দখলে নিতে চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই সড়কের পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে বালির এই পাহাড়, যা নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি চারলেন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহলে।
 
 
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ করে সুরমা নদীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। একইসঙ্গে প্রকল্পের নামে অনুমোদনহীন বালি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ