ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাফরুল থানায় তনির নামে একাধিক অভিযোগ

সাদাত রহমানের বাসার নীচে নিজেকে প্রথম স্ত্রী দাবি করে তনি


আপডেট সময় : ২০২৫-১১-১১ ১৮:৩৭:২৮
সাদাত রহমানের বাসার নীচে নিজেকে প্রথম স্ত্রী দাবি করে তনি সাদাত রহমানের বাসার নীচে নিজেকে প্রথম স্ত্রী দাবি করে তনি



আকাশ নিবির:
ফের বিয়ে করে সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেনদের সমালোচনার মুখে নারী পড়েন উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। এরপর তার বিরুদ্ধে বের হতে থাকে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। একটি বিশ্বস্তসূত্রের খবরে সাবেক স্বামী শাহাদাত রহমান স্বামী সচিব ছিলেন এমন খবর প্রচারে বেশ নড়েচড়ে বসেন তনি। 



তনির বিরুদ্ধে ৬ বছর আগে কাফরুল থানায় অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন সাদাত রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা ইয়াসমিন। পরে অভিযোগটি তদন্তের জন্য দেয়া হয় থানার এসআই জিল্লুর রহমানকে। 



অভিযোগে লিখেন, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী নাহিদা ইয়াসমিন রহমান (৫৬), ঠিকানা মহাখালী ডিওএইচএস। এই মর্মে জানাইতেছি যে, প্রথম বাদী সাদাত রহমানকে গত ২১ বছর (২০১৯ ইং অনুযায়ী) পূর্বে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ করি। প্রকাশ থাকে যে আমার সাথে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে আছে। আগের স্ত্রীকে ডিভোর্সের পরে আমাদের বিবাহ হয় এবং আমাদেরও ১ ছেলে ও ১ মেয়ে আছে।



আমি গত ০৩/১১/২০১৯ ইং তারিখে লিগ্যাল এইড থেকে একটি নোটিশ পাই। যাহাতে লেখা আছে, আমার স্বামী আমাকে গেল ১৩/০৬/২০১৯ তারিখে ডিভোর্স দিয়েছে কিন্তু এই ব্যাপারে আমি কোন নোটিশ পাইনি। তবে গত ২৭/০১/২০১৯ তারিখের একটি তালাকের নোটিশ পাঠায় যা আমি ২১/০৩/২০১৯ তারিখের তালাকের নোটিশ প্রত্যাহারের আবেদন এবং ২৩/০৩/২০১৯ তারিখের আমার বিরুদ্ধে করা কাফরুল থানার জিডি নং ৯৬৪ তাং ১৬/০২/২০১৯ প্রত্যাহারের জিডিসহ কপি আমার স্বামী ২৩/০৩/২০১৯ তারিখে আমার হাতে দেয় এবং নিয়মিত বাসায় অবস্থান করে।



কিন্তু উক্ত তারিখে দ্বিতীয় বিবাদী রোবাইয়াত ফাতিমা তনি (২৮), ঠিকানা: বাড়ী নং - ৪০, ফ্ল্যাট - বি -২, রোড নং - ২, বনানী ঢাকা।



রোবাইয়াত ফাতিমা তনি গত ২১/০৩/২০১৯ তারিখে আমার বর্তমান বাসায় আসিয়া আমার স্বামীর স্ত্রী বলিয়া দাবী করে। প্রমাণ চাইলে তিনি উল্টাপাল্টা কথা বার্তা বলে এবং ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করেন। এ ব্যাপারে আইন ও সালিশ কেন্দ্রে অভিযোগ আছে এবং গত ১০/১০/২০১৯ ও ২৪/১০/২০১৯ এবং ৭/১১/২০১৯ তারিখে উক্ত কেন্দ্রে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দিলেও আমার স্বামী সাদাত রহমান হাজির হয় নাই।



এছাড়াও বর্তমানে দ্বিতীয় বিবাদী মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার কথাবার্তা ও বাসা ছাড়ার জন্য হুমকি প্রদান করে এবং আমার স্বামী আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। সেখানে বিবাদীর তনির মোবাইল নাম্বার যুক্ত করা হয়। এমতাবস্থায় আমি আমার মেয়েকে নিয়ে হুমকির মধ্যে জীবন যাপন করেতেছি।  



এ প্রসঙ্গে সাদাত রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে বাংলার আলো নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার আকাশ নিবির সরাসরি কথা বললে একাধিক প্রমাণ কাগজাদিসহ নানান অভিযোগ তুলেন নাহিদা। যা নানান পর্বে প্রকাশ করা হবে। তনির বিরুদ্ধে এছাড়াও একাধিক জিডি কপি আমাদের হাতে এসেছে। 



এর আগে আপডেট ২৪ নামক একটি অনলাইনে নাহিদা ইয়াসমিনের অভিযোগ করে, ২১ বছরের সংসার ভেঙ্গে দেয় রোবায়েত ফাতেমা তনি। এমনকি মহাখালী ডিওএইচএস যে ফ্ল্যাটে হিদা ও তার মেয়ে থাকতেন সেই ফ্ল্যাটটি কেড়ে নিতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করতেন জনপ্রিয় এই উদ্যেক্তা। কিন্তু দুই বছর এই ফ্ল্যাট নিয়ে মামলা চলার পর আদালত রায় দিয়েছিল তনির বিপক্ষে।



সাদাত রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদা ইয়াসমিন জানান, তাদের ২১ বছরের সংসারে সুখ শান্তির কমতি ছিলো না। একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে ভালই চলছিলো সব কিছু। ২০১৯ সালের জানুয়ারির মাসের শুরুর দিকে সাদাত রহমানের আচারণে বেশ পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি বেশ চুপচাপ হয়ে পরতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। সপ্তাহ খানেক পড়ে এসে জানান তিনি মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন।



নাহিদা ইয়াসমিনের দাবি, তিনি লোখ মুখে শুনেছেন ২০১৯ এর ১৩ জানুয়ারি তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন। এই মর্মে তিনি কোন নোটিশ পাননি। পরে ১৭ জানুয়ারি নাহিদার হাতে তালাকের কাগজ তুলে দেন সাদাত রহমান। মাস দুয়েক পর তার আচারণের জন্য অনুতপ্ত হন এবং ক্ষমা চান নাহিদার কাছে। এরপর ২১ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে তালাক প্রত্যাহারের এবং কাফরুল থানা থেকে তালাক প্রত্যাহারের জিডির কপি (জিডি নং ৯৬৩, তারিখ : ২৩-০৩-২০১৯) নাহিদার হাতে তুলে দেন সাদাত।



এরপর ক্ষমা চেয়ে আবার বাসায় থাকতে শুরু করেন। হঠাৎ একদিন রোবায়েত ফাতেমা তনি মহাখালী ডিওএইচএস এ সাদাত রহমানের বাসার নিচে গিয়েস তাকে নিজের স্বামী বলে চিল্লাপাল্লা শুরু করেন। প্রমাণ চাইলে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে নাহিদা এবং তার মেয়েকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। 



নাহিদা ইয়াসমিন জানান, তনির গালাগালি শুনে সাদাত রহমান দাবি করেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তনি তাকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছে। তার সাথে থাকা ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়েছেন। তনি তার সব কিছু শেষ করে বাড়ীটি লিখে নেবার পায়তারা করেছেন। এসময় তনি তার বাসার নিছে ফোন করে কিছু লোকজন নিয়ে আসে এবং সাদাত রহমানকে বের করে তনি বনানীর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।



যাবার সময় তনি নাহিদাকে ডেকে বলেন, মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র চলে না গেলে এর কঠিন মূল্য দিতে হবে। নাহিদার দাবি তার স্বামী একজন বড় ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি ফু-ওয়াং সিরামিকে চাকরী করতেন। তার অনেক টাকা আছে জেনে তনি তাকে প্রেম ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। তার সমস্ত অর্থ হাতিয়ে নিবার পর তার একমাত্র মাথা গোজার শেষ শম্ভল মহাখালী ডিওএইচএস বাড়ীটি দখল করার চেষ্টা করেন এবং বার বার নোটিশ পাঠান।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাহিদা ইয়াসমিন কাফরুল থানায় কয়েকটি জিডি করেন (জিডি নং - ১৪৪১, তারিখ : ২১-১১-২০২১, জিডি নং - ৬১৩, তারিখ : ০৯-১১-২০১৯, জিডি নং - ১৩৭৭, তারিখ : ২১-০৯-২০১৯) এছাড়াও মানবাধিকার সংস্থা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রে সুরহা পাবার জন্য কয়েকটি অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু দুইবার নোটিশ প্রদান করলেও তিনি কোন সাড়া পাননি।



পরে বাধ্য হলে নাহিদ ও তার মেয়ে আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করনে (মামলা নং - ০১/২০২১)। দুই বছর মামলা চলার পর মহামান্য আদালত ঐ ফ্ল্যাটে বসবাস করার জন্য তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।



ভুক্তভুগী স্ত্রী নাহিদা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, তার অনুমতি ছাড়া তনিকে বিয়ে করেন সাদাত। কোন প্রকার নোটিশ ও আলোচনা ছাড়াই আইন বর্হিভূতভাবে তাকে তালাক প্রদান করেন। তবে তার বিশ্বাস তনি তার স্বামীকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। তাকে তালাক দিতে সাদাতকে বাধ্য করেছেন। কেননা তার স্বামী তালাক বাদ দিকে থানায় জিডি করেছিলেন।






প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সাদাত রহমানকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছিলেন দেশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনিরোবায়েত ফাতেমা তনি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তনি ভুল মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাদাত রহমান ছিলেন কোম্পানীর বোর্ড অব ডিরেক্টর নমিনি ফু-ওয়াং সিরামিক। তিনি এমবি করেছেন সিটি কলেজ, ইউকে, তার ক্যারিয়ার ১৯৯৭-২০০০, সিওও সামাহ রাজর ইন্ডাস্ট্রিজ ব্লাডাস লিমিটেড। তিনি ২০০১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ছিলেন ভিপি মার্কেটিং/পিআর অব জিএমজি এয়ারলাইন্স। এছাড়াও ফু-ওয়াং সিরামিক ২০২২-২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে, তিনি মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটির সদস্য ছিলেন। যার বেতন ছিল ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ