খালিদ হাসান: সিরাজগঞ্জ শহরের চর মালশাপাড়া যমুনা নদীর দক্ষিণ পাড়ে এখন চলছে কাশফুলের রাজত্ব। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত প্রকৃতিপ্রেমী। বর্ষায় যেখানে থইথই পানিতে ভেসে বেড়ায় সারি সারি নৌকা, শরৎ এলে সেখানে ঢেউ তোলে সাদা কাশফুলের মেলা। বাতাসে দুলে ওঠা কাশফুলের সমারোহে যেন স্বপ্নের রাজ্যে প্রবেশ করেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়দের কাছে এটি “চায়না বাঁধ” নামে পরিচিত: পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত পৌনে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্রসবারটি এখন সিরাজগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণস্থান। প্রতিদিন বিকেল হলেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন এখানে প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে।
তাড়াশ থেকে বাবার সঙ্গে ঘুরতে আসা ছোট্ট তামিম হাসান আনন্দভরা মুখে বলল, “নদীর ঢেউ দেখলাম, নৌকা দেখলাম, কাশফুলের কাছে ছবি তুলেছি—ভালোই লাগছে।”
শহর থেকে ঘুরতে আসা নিমাই কর্মকার জানান, “যতদূর চোখ যায় শুধু সাদা সাদা কাশফুল—মন ভরে যায় এই দৃশ্য দেখে।
ছাতিয়ানতলী মোড় গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএমএফ কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, “দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরাই বেশি। এই জায়গাটা এখন সিরাজগঞ্জের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “নদীর পাড়ে জন্ম নেওয়া সাদা কাশফুল দেখতে প্রতিদিনই অনেক দর্শনার্থী আসেন। বিশেষ করে ছুটির দিনে ভিড় বেড়ে যায়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সবসময় কাজ করছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, “বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাকৃতিক ফুলের মধ্যে কাশফুল অন্যতম। দেশের প্রায় সব নদীর তীর ও জলাশয়ের ধারে স্বাভাবিকভাবেই কাশফুল জন্মে। শরৎকালের আগমন জানান দেয় এই কাশফুলের শুভ্র দোলা।
কাশফুলের সাদা সমুদ্র, যমুনার নীল ঢেউ আর মুক্ত আকাশ—সব মিলিয়ে এখন যমুনা পাড় যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত চিত্রশালা। শহরের কোলাহল ছেড়ে যারা কিছুটা নির্জনতা ও নির্মল বাতাস খুঁজছেন, তাদের কাছে এই চায়না বাঁধ হয়ে উঠেছে এক টুকরো শান্তির আশ্রয়।