কুড়িগ্রামের উলিপুরে সত্তুর্ধ নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সত্তুর্ধ মানষিক ভারসাম্যহীন এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২-০৯-২৫) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উলিপুর পৌরসভার রামদাস ধনিরাম মৌজার খেয়ারপাড় গ্রামে নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মানসিক ভারসাম্যহীন মৃত সাহেরা খাতুন (৭২) নিজেই গলায় বটি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, বলে ওই এলাকার প্রতিবেশী নুরনাহার বেগম, ভাড়াটিয়া ববিতা বেগম, মহিউল ইসলাম, আব্দুল হানিফ, মাজেদা, সুফিয়া খাতুন ও জোবেদাসহ উৎসুক অনেক দর্শনার্থীরা জানিয়েছে।
ওই বাড়িতে মৃত সাহেরা বেগমের দুই ছেলে, ছেলের বউ, ২ নাতি এবং ২ নাতনি নিয়ে বসবাস করছিলেন। ছেলে শাহিন আলম ও সাখাওয়াত হোসেন বাবলু জানায়, প্রায় চার বছর আগে তাদের মা সাহেরা বেগম স্ট্রোক করেছিল। এরপর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ওঠে। ইতিপূর্বে তাদের মা কয়েকবার বাড়ি সংলগ্ন কেসি রোডে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল বলে জানায় তারা।
মৃতার একমাত্র মেয়ে রোকেয়া বেগম জানান, আমার মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় সে নিজে নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাই, ভাই বউ কিংবা কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
মৃত নারীর ছোট ছেলে শাহিন আলমের স্ত্রী বিউটি বেগম জানায়, রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে মা সাহেরা বেগম ঘুমিয়েছিল। ভোরবেলা উঠে দেখি বিছানায় মা নেই। এরপর খোঁজাখুঁজি করে রান্নাঘরে তার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখি।
এ সময় বিউটি বেগমের আত্মচিৎকারে ছেলেসহ প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখে সাহেরা বেগমের গলাকাটা নিথর দেহ রান্নাঘরে পড়ে আছে। লাসের পাশেই সবজি কাটার রক্তমাখা বটি আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, প্রতিবেশীদের ভাস্যমতে তিনি আত্বহত্যা করে থাকতে পারেন। তদন্ত চলছে, পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট ও তদন্তের পর রহস্য জানা যাবে।
রাত সাড়ে নয়টায় গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে যানাজা শেষে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।