দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যেই আবু জাফরকে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি করার উদ্যোগ

আপলোড সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০৬:৩৫:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০৭:২৭:২০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের ফ্রিজ করা হিসাব থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার ঘটনায় সহযোগিতাসহ দুর্নীতি, অর্থপাচার, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের মধ্যে থাকা মোহাম্মদ আবু জাফরকে এবার ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাঁকে এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ সম্প্রতি সম্মতি দিয়ে অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে। 

এমন সময়ে সংকটাপন্ন এই ব্যাংকটি এই উদ্যোগ নিলো, যখন আবু জাফরের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডি থাকাকালে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের ফ্রিজ করা হিসাব থেকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা ও ৩০ হাজার ডলার তুলে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ জাফরের বিরুদ্ধে। 

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে গত ১৬ এপ্রিল জারি করা নোটিশে বলা হয়, প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক এমডি ও সিইও আবু জাফরের বিরুদ্ধে “দুর্নীতি, অর্থ মানিলন্ডারিং” এবং “বিভিন্ন গ্রাহকের অনুকূলে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের অভিযোগ” অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

একই নোটিশে দুদক বলেছে, এসব অভিযোগের পাশাপাশি “বিগত ১১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বনানী শাখা থেকে কতিপয় ফ্রিজ হিসাবের অর্থ উত্তোলন” সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নির্বাহীদের বক্তব্য নেওয়া “একান্ত প্রয়োজন”।
এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ২০২৪ সালের নভেম্বরে এইচবিএম ইকবাল, তার স্ত্রী অভিনেত্রী আঞ্জুমান আরা শিল্পী এবং তাদের তিন সন্তান মঈন উদ্দিন ইকবাল, মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও নওরীন ইকবালের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে। তাদের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাব থাকলে সেগুলোও স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রিমিয়ার ব্যাংক এইচবিএম ইকবালের হিসাব থেকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ৩০ হাজার ডলার তুলে নেওয়ার সুযোগ দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিএফআইইউ ব্যাংকটিকে উত্তোলিত অর্থের সমপরিমাণ জরিমানা করে।

ঘটনাটি অনুসন্ধানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালনকারী কর্মকর্তা শামসুদ্দীন চৌধুরী, এসভিপি ও এএমএল অ্যান্ড সিএফটি বিভাগের প্রধান মো. সাইফুল ইসলামসহ ব্যাংকটির বনানী শাখার নয় কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মকর্তাকে বক্তব্য দিতে তলব করে দুদক।

এরই মধ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আবু জাফরকে। ব্যাংকটির পর্ষদ গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় যা চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়। এর আগে ২০ নভেম্বর থেকে তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়েছিল ব্যাংক।
আবু জাফর ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তারও আগে তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন এবং ব্যাংকটির দিলকুশা শাখার প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে দুদকের চলমান অনুসন্ধান এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে তার চুক্তি বাতিলের কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে আবার একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী পদে বসানোর উদ্যোগ ব্যাংক খাতে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

আবু জাফর কে একাধিক বার কল ও এসএমএস দেওয়া হয়েছে। তিনি কোন উত্তর দেয়নি তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 


আবু জাফর এর অনিয়ম-দুর্নীতির ও অবৈধ অর্থ সম্পদের তথ্যসহ ভিডিও নিউজ ২য় পর্বে।



 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com