আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় রোপা আমন মৌসুমে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। এতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত না খোলা, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য ও গুদাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সার বিতরণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ২৩ আগস্ট উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে ২৪ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীতে ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। কৃষকদের জন্য উপজেলায় ১০ জন বিসিআইসি ও সাতজন বিএডিসি ডিলার রয়েছেন। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে উপজেলায় মোট ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৪৫ টন সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে শিলখুড়ি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ১১৯ দশমিক ৯ টন। কৃষকরা জানান, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমন ধান রোপণের পর নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন নিয়ে
দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাগলার হাট এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। ধান রোপণের ২১ দিনের মধ্যে সার দেওয়ার কথা থাকলেও ২৬ দিনেও তিনি সার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, কোনো কোনো বিক্রয়কেন্দ্রে সার আসার খবর পেয়ে একসঙ্গে অনেক কৃষক জড়ো হন। এতে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আবার অনেক সময় নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে সার না থাকায় তাদের খোলা বাজারে যেতে হয়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কয়েকজন ডিলারের মূল গুদাম সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত সার পাওয়া যায় না। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এ ছাড়া বিসিআইসি ডিলারের কাছ থেকে বিএডিসি
ডিলারকে সার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সার সংকটের এই ক্ষোভ থেকেই ২৩ আগস্ট শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় মোট সারের ঘাটতি নেই। তবে ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য থাকায় শিলখুড়ি ইউনিয়নে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগে ডিলারদের প্রায় সমানভাবে সার দেওয়ার কারণে শিলখুড়ি ইউনিয়নে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পৌঁছাত। এখন অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সমন্বয় করে সেখানে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকরা বলছেন, শুধু বরাদ্দ সমন্বয় করলেই হবে না। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা, বরাদ্দ অনুযায়ী সার পৌঁছানো এবং সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল আজিম বলেন, ২৩ আগস্ট রাতে সারের ডিলার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ২৪ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
অমৃত দেবনাথ বলেন, ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।b
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় রোপা আমন মৌসুমে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। এতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত না খোলা, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য ও গুদাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সার বিতরণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ২৩ আগস্ট উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে ২৪ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীতে ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। কৃষকদের জন্য উপজেলায় ১০ জন বিসিআইসি ও সাতজন বিএডিসি ডিলার রয়েছেন। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে উপজেলায় মোট ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৪৫ টন সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে শিলখুড়ি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ১১৯ দশমিক ৯ টন। কৃষকরা জানান, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমন ধান রোপণের পর নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন নিয়ে
দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাগলার হাট এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। ধান রোপণের ২১ দিনের মধ্যে সার দেওয়ার কথা থাকলেও ২৬ দিনেও তিনি সার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, কোনো কোনো বিক্রয়কেন্দ্রে সার আসার খবর পেয়ে একসঙ্গে অনেক কৃষক জড়ো হন। এতে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আবার অনেক সময় নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে সার না থাকায় তাদের খোলা বাজারে যেতে হয়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কয়েকজন ডিলারের মূল গুদাম সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত সার পাওয়া যায় না। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এ ছাড়া বিসিআইসি ডিলারের কাছ থেকে বিএডিসি
ডিলারকে সার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সার সংকটের এই ক্ষোভ থেকেই ২৩ আগস্ট শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় মোট সারের ঘাটতি নেই। তবে ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য থাকায় শিলখুড়ি ইউনিয়নে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগে ডিলারদের প্রায় সমানভাবে সার দেওয়ার কারণে শিলখুড়ি ইউনিয়নে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পৌঁছাত। এখন অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সমন্বয় করে সেখানে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকরা বলছেন, শুধু বরাদ্দ সমন্বয় করলেই হবে না। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা, বরাদ্দ অনুযায়ী সার পৌঁছানো এবং সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল আজিম বলেন, ২৩ আগস্ট রাতে সারের ডিলার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ২৪ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
অমৃত দেবনাথ বলেন, ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।b