নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিনই চলছে ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ বাস। লক্কড়ঝক্কড় এসব যানবাহনের কারণে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে যাত্রীদের জীবনও পড়ছে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। অথচ দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ থাকে নিয়মিত অভিযান ও দৃশ্যমান নজরদারির অভাবে।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাসের শরীরের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা, জানালা-দরজার অবস্থা নাজুক এবং কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। পুরোনো এসব বাসের অনেক গুলোরই রং উঠে গেছে, বডিতে মরিচা ধরেছে এবং যাত্রী ওঠানামার দরজাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচলের অভিযোগও রয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, গণপরিবহনের সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক বাস মালিক ও চালক ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামাচ্ছেন। যাত্রীরা বাধ্য হয়েই এসব বাসে উঠছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রশ্ন-একটি বাস ফিটনেসবিহীন হয়ে রাস্তায় নামার পর দুর্ঘটনা ঘটলেই কেন প্রশাসনের নজরে আসে? নিয়মিত পরিদর্শন ও কঠোর নজরদারি থাকলে দুর্ঘটনার পর তদন্ত বা অভিযান চালানোর প্রয়োজনই বা কেন হবে?
সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাড়ির ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, রুট পারমিট ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ—সবকিছুই কঠোরভাবে তদারক করা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণে অনেক অনুপযুক্ত যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে সড়কে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এসব বাসের বেশিরভাগ গোল্ডেন সিটি এবং তুরাগ পরিবহনের, গোল্ডেন সিটি বাসগুলো আনুমানিক ২৫-৩০ বছরের পুরোনো, এরা প্রথমে শুপ্রভাত পরিবহন নামে ছিল, রাজধানীর বসুন্ধরায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেসনাল (BUP) এর ছাত্র আবরার হত্যার পরে উক্ত কোম্পানির রুট পারমিট বাতিল হওয়ার পরে তারা ভিক্টর ক্লাসিক নামে নতুন করে আবার রূস্তায় নামে। তুরাগ পরিবহনের অবস্থা ও একই, যদিও তারা এখনো বড় কোন দূর্ঘটনার স্বীকার হয়নি।
কিছুদিন আগে তারা আবার খোলস পাল্টায়, নতুন নামে গোল্ডেন সিটি, খোলস পরিবর্তন করলেও সেই পুরনো বাস আর পুরনো চরিত্র, আবার নতুন কোন দূর্ঘটনা ঘটবে তখন শুশীল আর দায়িত্ত্বশীলদের কন্ঠে শোনা যাবে দায়িত্ববান আর আদর্শের বানী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় নয়; দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি আগে থেকেই শনাক্ত করা গেলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
এজন্য ফিটনেস পরীক্ষায় অনিয়ম, ভুয়া বা দুর্বল পরিদর্শন এবং নিয়ম না মেনে যানবাহন চলাচলের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। নগরবাসীর দাবি, রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী সব গণপরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষা নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে করতে হবে।
যেসব বাস নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ, সেগুলো দ্রুত সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত মালিক, চালক কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নিয়মিত ও ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। নগরবাসীর প্রশ্ন একটাই-আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?