নৈ'শপ্রহরী নেই ৮০ স্কুলে, দেওতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভে'ঙে চু'রি

আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৩:২৫:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৩:২৬:৫৭ অপরাহ্ন
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি



গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের পকেট গেট ও অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষের আলমিরা ও টেবিলের বিভিন্ন ড্রয়ার খোলা। ভেতরে থাকা কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বারান্দার পকেট গেটের তালাও ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে বিদ্যালয়ে এসে প্রথমে কেচি গেটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জানান।



পরে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা এসে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। স্থানীয় বাসিন্দা সেবক পাল, সাইফুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী অভিভাবক আয়েশা বলেন, সকালে সন্তানকে বিদ্যালয়ে নিয়ে এসে তারা গেট ও অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়েছে। দেওতলা গ্রামের ইতিহাসে বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা এবারই প্রথম বলেও জানান তারা। স্থানীয়ভাবে মাদকাসক্তদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কারিমা বলেন, চুরির খবর পেয়ে অনেকে বিদ্যালয়ে এসে ভিড় করেন। তখন তিনি সবাইকে তালা কিংবা আসবাবপত্রে হাত না দেওয়ার অনুরোধ করেন, যাতে প্রয়োজনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে চোর শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শ্রেণিকক্ষ থেকে ফিরে তিনি দেখতে পান, ভাঙা তালাটিও আর সেখানে নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন বলেন, সকালে সহকারী শিক্ষকের ফোন পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। অফিস কক্ষে ঢুকে আলমিরা ও টেবিলের সব ড্রয়ার খোলা দেখতে পান।


সেখানে রাখা ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়েছে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিশুদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টরটিও চোরেরা নিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনা শুধু একটি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংকট নয়, কালীগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, তিনি কালীগঞ্জে যোগ দেওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যেই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৭টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী রয়েছেন। বাকি ৮২টি বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। এর মধ্যে গত মাসেও আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। এখন ৮০টি বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। জেসমিন আক্তার আরও বলেন, সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করলে অথবা বরাদ্দ দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে এ ধরনের চুরি কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব। দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ###

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com