হেলাল উদ্দীন (মিঞাজী)নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের হাট-বাজার, ঘাট ও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টোল-ট্যাক্স আদায়ের ইজারা ডাক প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ও কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে এ ইজারা ডাক অনুষ্ঠিত হয়।
ইজারা ডাকে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দিয়ে ইজারা পেয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ঠিকাদার জিয়াবুল হক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা নুরুল আবসার সোহেল দর দেন ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা মোহাম্মদ কামাল দর দেন ৫৯ লাখ টাকা।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুব এলাহী বলেন, ইজারা ডাকার জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২৩ জন ব্যক্তি দরপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ২২ জন প্রকাশ্য ডাকে অংশ নেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনেই সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকূলে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান ইতু বলেন, সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়েছে। ডাককারীরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি দর না দেওয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতার অনুকূলে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১২ মে প্রথম দফায় ইজারা ডাক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই ডাকে রেকর্ডসংখ্যক ১৩৬ জন অংশ নেন। তখন সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দর উঠলেও পরবর্তী জটিলতার কারণে ওই প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। এরপর সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খাস কালেকশন কার্যক্রম চালু রাখা হয়।
অবশেষে বুধবার প্রশাসনের সরাসরি তদারকিতে প্রকাশ্য ডাকে পুনরায় ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, অত্যন্ত ঝাঁকজমকপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ পরিবেশে ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান ইতুসহ আরও দুজন উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। ইজারা ডাকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি করা হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, প্রকাশ্য ডাক, প্রতিযোগিতামূলক দর এবং প্রশাসনের সরাসরি নজরদারির মাধ্যমে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে।