প্রশ্নসিরিজ হবে? উত্তরমনে হয় না

আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬ ১০:৪৪:৫৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৬ ১০:৪৯:১২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক


ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে নাটক যেন শেষ হচ্ছেই না। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই এই নাটকীয়তা শুরু। মাঝে আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও ফের শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা। সেপ্টেম্বরে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও আবারও তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দুদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো আশা ছাড়ছে না। সেপ্টেম্বরে সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে বোর্ডের কর্মকর্তারা এখনো আশাবাদী।


তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাস্তবতা বলছে, সেই আশা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। মূলত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের কয়েকজন সদস্যকে দিল্লিতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ার পরই পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। ৮ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভারত যদি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খর্ব করা এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির মতো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের কাছ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করা বেমানান। বিজ্ঞাপন বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, শেখ হাসিনার বক্তব্য সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। ফলে, ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার ব্যাপারে বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য এটি বড় ধাক্কাই বটে। দুদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও ক্রিকেটের মাধ্যমে সম্পর্কের বরফ গলানোর ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন।


তবে সেই আশা এখন গুড়েবালি হওয়ার পথে! ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ভারত সফরে এলে বিসিবি আর্থিকভাবেও ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারত। কারণ বিশ্বের প্রায় সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের কাছেই ভারতকে আতিথ্য দেওয়া বড় আকর্ষণের বিষয়। ভারতের ব্র্যান্ড মূল্য এবং বিশ্বজুড়ে তাদের জনপ্রিয়তার কারণে তাদের সফর যেকোনো ক্রিকেট বোর্ডের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আবারও বদলে গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এরপর শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও ভারতের প্রতি অসন্তোষ স্পষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা এখন অনেকটাই দূরের স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। এমনকি সিরিজটি আয়োজন করা অসম্ভবও হয়ে যেতে পারে। এই সিরিজের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল সমকালের কাছে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এ বিষয়ে আমার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বোর্ড সভাপতি হিসেবে যতটা যাওয়ার, আমি ততটা গিয়েছি। সীমা অতিক্রম করতে চাই না। বিসিসিআই-এর সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মিত যোগাযোগ আছে।



বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সিরিজ আনন্দদায়ক হয়। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না।’ বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি নিজেই সিরিজটি নিয়ে সন্দিহান। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাম্প্রতিক সব ঘটনার পর এখন আমি সিরিজটি নিয়ে সন্দিহান। ভারতের পক্ষ থেকে (সিরিজের ব্যাপারে) কোনো সাড়া পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। সত্যি বলতে, ২৮ আগস্টের মধ্যেই সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। আমাদের হাতে আর কত দিনই বা আছে?’ সিরিজটি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার মনে হয় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিষয়টি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।


’ তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বিসিবি আশা ছাড়তে রাজি নয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এটি বাতিল না হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা শুধু আশা করে যেতে পারি।’ ভারতের শেষ বাংলাদেশ সফর হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। বর্তমান পরিস্থিতি যদি আরো জটিল হয়, তাহলে দুই দলের পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সিরিজের জন্য অপেক্ষার সময় আরো দীর্ঘ হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com