১৩ বছর ধরে অচল বুড়াবুড়ীর জনতার হাট–সাকোরপাড় সড়কের ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আপলোড সময় : ২০-০৬-২০২৬ ১২:২৮:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৬-২০২৬ ১২:৩৩:২০ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের জনতার হাট–সাকোরপাড় সড়কের ওপর নির্মিত একটি ব্রিজ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায় ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজটির নিচের অংশের মাটি সরে গেলে সেটি দেবে যায়। এরপর থেকে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি জনতার হাট, বুড়াবুড়ী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে উলিপুর উপজেলা সদরের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু ব্রিজটি অচল হয়ে পড়ার কারণে স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীরা।

বুড়াবুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, জনতার হাট উচ্চ বিদ্যালয় এবং জোবাইদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বিকল্প পথ ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। একইভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও বাড়তি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ কাইয়ুম সরকার বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রায় চার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে উপজেলা শহরে যেতে হয়।

এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।” জনতার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক আহম্মেদ এবং বুড়াবুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী জানান, শুকনো মৌসুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন পাশের ফসলি জমির আইল ব্যবহার করে চলাচল করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। তখন শিক্ষা কার্যক্রমসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি অচল থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসল বাজারজাত করতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান খন্দকার এরশাদ বলেন, “ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, এলজিইডি প্রকৌশলী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।” উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ ফিজানুর রহমান জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্স ব্রিজটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে সেটি দেবে যায়। এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা পুরোনো ব্রিজটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি অথবা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ওই স্থানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে একই প্রতিশ্রুতি শুনলেও বাস্তবে কোনো কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ না নিলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু অচল অবস্থায় পড়ে থাকা স্থানীয়দের কাছে শুধু অবকাঠামোগত দুর্বলতার নয়, বরং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধীরগতিরও একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com