ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পাঠ্যক্রমে সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শাখা ছাত্র ইউনিয়ন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ ও ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স দুটি সকল বিভাগের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ক্রেডিট কোর্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার যে সংশোধনী পাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ধর্মীয় শিক্ষা বা মূল্যবোধভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের বিপক্ষে নই। বরং প্রত্যেক ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নৈতিক শিক্ষার বিকাশ আমরা সমর্থন করি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক কোর্স বাধ্যতামূলক করা হলে তা শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং একাডেমিক স্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর এই ধরণের বাধ্যতামূলক ক্রেডিট কোর্স আরোপ করলে একদিকে একাডেমিক চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যদিকে বিভাগভিত্তিক বিশেষায়িত শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
দুই দাবি উল্লেখ করা বলা হয়, উক্ত সংশোধনী বাতিল অথবা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে ঐচ্ছিক কোর্স হিসেবে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হোক, যাতে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে পারে।
উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর ১৩১ তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পর ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ ও ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স দুটিকে বাধ্যতামূলক ক্রেডিট কোর্স করা হয়। এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত নন-ক্রেডিট কোর্স হিসেবে যেকোনো একটি কোর্স করতে হতো শিক্ষার্থীদের।