সাইদুল ইসলাম বালাগঞ্জ সিলেট ক্রাইম রিপোর্টার প্রতিনিধি :
: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর কদমতলায় অবস্থিত প্যারাডাইস মেডিকেল কমপ্লেক্সকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং অদক্ষ চিকিৎসাসেবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। এ ঘটনায় সরকারি নির্দেশে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর কদমতলায় অবস্থিত প্যারাডাইস মেডিকেল কমপ্লেক্সকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং অদক্ষ চিকিৎসাসেবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। এ ঘটনায় সরকারি নির্দেশে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনলাইন পত্রিকা “আলোর সন্ধানে প্রতিদিন”-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিতে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। এতে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নিম্নমানের চিকিৎসাসেবার কারণে রোগীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি স্মারকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।
গঠিত কমিটিতে রয়েছেন—সহকারী সার্জন ডা. রুবাইয়া আহমদ, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আব্দুল জাহিদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুযেন চন্দ্র দাশ এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শ্রী টোকন কুমার।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটিকে ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষ করে রক্তের ক্রস-ম্যাচিংয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, চিকিৎসা-সংক্রান্ত অতিরিক্ত আনুষঙ্গিক ব্যয়ের কারণে মোট বিল কিছুটা বেশি হতে পারে, যা অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হবে।
সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।