মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড় জেলার ঐতিহ্যবাহী মহারাজার দিঘী প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে “বৈশাখী মেলা ১৪৩৩”। তিন দিনব্যাপী এই জমজমাট মেলার আয়োজন করেছে ১ নং অমরখানা ইউনিয়ন বিএনপি। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই আয়োজন, যেখানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজারো মানুষ।
মেলায় রয়েছে নাগরদোলা, সার্কাস, জাদু প্রদর্শনী, ভূতের বাড়ি সহ নানা ধরনের বিনোদনের আয়োজন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্যই রয়েছে আনন্দের নানা উপকরণ। এছাড়াও বিভিন্ন দোকানপাট, খেলনা, মিষ্টি ও স্থানীয় পণ্যের স্টল মেলাকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।
মেলা কমিটির পরিচালক এবং ১ নং অমরখানা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু মায়েদ সরকার মুকুট বলেন,
“আমরা চেয়েছি আমাদের এলাকার মানুষ যেন বৈশাখের আনন্দ একসাথে ভাগাভাগি করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে, এবং মানুষের ব্যাপক সাড়া আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”
১ নং অমরখানা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন,
“এটি শুধুমাত্র একটি মেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। আমরা চেষ্টা করেছি মেলাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করতে, যাতে দর্শনার্থীরা নিরাপদে উপভোগ করতে পারেন।”
মেলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন এসআই তৈয়ব আলী সরকার। তিনি জানান,
“মেলায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং মেলাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”
আয়োজকদের তথ্যমতে, মেলার প্রথম দিনেই প্রায় ৫০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এখনও আরও দুই দিন মেলা চলবে বলে জানানো হয়েছে, এবং আয়োজকরা আশা করছেন দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
মেলায় ঘুরতে আসা ঠাকুরগাঁর পর্যটক আলম বলেন,
“এত বড় ও সুন্দর মেলা দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। পরিবার নিয়ে এখানে এসে অনেক আনন্দ উপভোগ করছি।”
তেতুলিয়া থেকে আসা দর্শনার্থী ইয়াসমিন আক্তার বলেন,
“মেলার পরিবেশ খুবই চমৎকার। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য অনেক কিছু আছে। নিরাপত্তাও ভালো মনে হয়েছে।”
সব মিলিয়ে, বৈশাখী মেলা ১৪৩৩ হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য এক আনন্দঘন মিলনমেলা, যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।