মাহফুজ রাজা,স্টাফ রিপোর্টার:
সৌদি আরবে মর্মান্তিক বজ্রাঘাতে প্রাণ হারানো কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মিয়ার শোকস্তব্ধ পরিবারে নেমে এসেছিল অন্ধকারের ছায়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তানের চোখে এখন শুধু অনিশ্চয়তার ভয় আর ভবিষ্যতের শূন্যতা। ঠিক সেই কঠিন মুহূর্তে মানবিক হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা নিজে উপস্থিত হন নিহত রাসেল মিয়ার বাড়িতে। শোকে স্তব্ধ পরিবারটির পাশে বসে তিনি কথা বলেন, তাদের দুঃখ-যন্ত্রণা শোনেন, সান্ত্বনা দেন। তার আগমনে যেন কিছুটা হলেও ভরসা ফিরে পায় ভেঙে পড়া পরিবারটি।
ঈদকে সামনে রেখে তিনি পরিবারের সদস্যদের মাঝে নতুন জামাকাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। উপহার নয়, যেন ছিল সহমর্মিতার স্পর্শ, কঠিন সময়ে বেঁচে থাকার শক্তি।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সৌদি আরবে কর্মস্থলে খোলা মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাসেল মিয়া। মৃত্যুসংবাদ দেশে পৌঁছাতেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা, স্তব্ধ হয়ে যায় ছোট ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ।
ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন,রাসেল মিয়ার মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। তার পরিবারকে একা ফেলে রাখা হবে না। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে এবং মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদ উপহার হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ বলেন,আমার দুর্যোগের সময়ে ইউএনও স্যার যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। মনে হচ্ছে আমরা একা নই।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দরিদ্র এই পরিবারটির সামনে এখন বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। তাই সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
একজন প্রবাসীর স্বপ্নভরা জীবন শেষ হয়ে গেলেও তার পরিবারের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এখনই শুরু আর সেই সংগ্রামে মানবিক সহায়তার হাতই হতে পারে তাদের নতুন আশার আলো।