রমজান এলেই বাজারে আগুন! মণিরামপুরে নিত্যপণ্যের দামে ভয়াবহ নৈরাজ্য

আপলোড সময় : ২৬-০২-২০২৬ ১০:১৩:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০২-২০২৬ ১০:১৩:০৫ অপরাহ্ন
 
 
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর
 
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই যশোরের মণিরামপুর উপজেলা-এর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, বেগুন, শসা ও লেবুসহ ইফতার সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, মণিরামপুর পৌর বাজার ও আশপাশের হাটগুলোতে রমজান উপলক্ষে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা তাদের।
 
বাজার করতে আসা আব্দুর রশিদ বলেন, “বর্তমানে বাজারের অবস্থা অত্যন্ত অস্থির। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ তেমন নেই। আমরা সাধারণ ক্রেতারা খুব কষ্টে আছি। কাঁচাবাজারে সিন্ডিকেট থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা দরকার।”আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ আলী জানান, “রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম খুব বেশি।

আগে লেবু ২০ থেকে ২৫ টাকা হালি ছিল, এখন ৬০ টাকা। শসা আগে ৩০ টাকা কেজি কিনেছি, এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বেগুন আগে ৪০ টাকা ছিল, এখন ৮০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এত দাম বৃদ্ধির কারণে বাজার করতে সমস্যা হচ্ছে। কাজকর্মও কম, আয় নেই বললেই চলে।”মণিরামপুর কাঁচাবাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের তারতম্যের কারণেই দাম বেড়েছে। রমজানের আগে শসা, লেবু ও বেগুনের দাম কম ছিল।

 রমজান শুরু হতেই চাহিদা বেড়েছে, ফলে দামও বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি; বিশেষ করে লেবু, শসা, কাঁচামরিচ ও বেগুনের দাম বেশি বেড়েছে।তিনি আরও বলেন, লেবুর মৌসুম না থাকায় সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। রমজানে প্রায় প্রতিটি দোকানে বেগুনের চপ বিক্রি হয়, ফলে বেগুনের চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বেগুন অন্যান্য জেলা ও উপজেলা এলাকা থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

আগে বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করা হতো, বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, কাঁচামালে কেউ সিন্ডিকেট করতে পারে না। মাঠে পর্যাপ্ত উৎপাদন না হলে দাম বাড়বেই। উৎপাদন কম হলে দাম নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

 
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

পণ্য সঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কি না তা তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও চালু রয়েছে। অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকটের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে এবং ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com