সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় তেলিয়া গ্রাম সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে নির্মাণাধীন শহর রক্ষা বাঁধের কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। প্রায় ৩৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তেলিয়া গ্রামের মৃত মকচুদ আলীর ছেলে আ. জলিল বলেন, “আগে নদীভাঙনের আতঙ্কে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতাম না। এখন কাজ দেখে আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।”
একই গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে রতন মিয়া জানান, নিচের অংশে গভীর পর্যন্ত জিও ব্যাগ ও জিও টিউব বসানো হয়েছে, ফলে বাঁধটি অনেক বেশি শক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “কাজ ভালো হয়েছে। তবে উপরের অংশটা আরও শক্ত করা গেলে প্রতিরক্ষা আরও বাড়বে।”
আরেক বাসিন্দা মৃত আ. হান্নানের ছেলে সেলিম আহমেদ বলেন, “এই বাঁধ আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজ চলমান থাকায় আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। দ্রুত কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকি কমবে।”
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কেসিইএল-নিয়াজ-নূনা (যৌথ উদ্যোগ)। প্রতিষ্ঠানটির সাইটের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং দ্রুতই বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি)-এর অধীনে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ কর্তৃক বাস্তবায়িত ফ্লাড রি-কনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিসট্যান্স প্রজেক্ট (এফআরইএপি)-এর আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আওতায় জামালগঞ্জ উপজেলার তেলিয়া গ্রাম থেকে শাহাপুর গ্রাম পর্যন্ত সুরমা নদীর বাম তীর বরাবর প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। নিচে ও উপরের কাজ মিলিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। শতভাগ নিখুঁত কাজ বাস্তবে সম্ভব নয়, তবে গুণগত মানের দিক থেকে কাজ সন্তোষজনক।