সাইদুল ইসলাম, বালাগঞ্জ,সিলেট,ক্রাইম রিপোর্টার ::
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হয়েছে পবিত্র 'লায়লাতুল বরাত' বা শবে বরাত। পবিত্র এ রাত উপলক্ষ্যে সিলেটের বিখ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এ দুই ওলির মাজারে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
আরবি শাবান মাসের ১৫ তারিখ (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এটি 'সৌভাগ্যের রাত' হিসেবে পরিচিত। ফারসি শব্দ 'শব' অর্থ রাত এবং 'বরাত' অর্থ মুক্তি। তাই শাব্দিক অর্থে শবে বরাত অর্থ হলো মুক্তির রাত।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই নগরীর দরগাহ গেইট এলাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও খাদিমনগরের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার মুসলমানেরা। কেউ এসেছেন নফল নামাজ আদায়ে কেউবা ওলির মাজার জিয়ারতে কেউবা নিজেদের মরহুম স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে। প্রতিবারের মতো এবছরেও পবিত্র শবে বরাতে সিলেটের বিখ্যাত দুই ওলির মাজারে মুসল্লিদের ভিড় ছিলো চোকে পড়ার মতো।
সারেজমিরন দেখা যায়, এবারও এসেছেন হাজার হাজার লোক। কেউ শাহজালাল (রহ.) মাজার থেকে শাহপরান (রহ.) মাজারে যাচ্ছেন। মাজারের বিভিন্ন স্থানে যে যার সুবিধামতো জায়গায় বসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। মাজার মসজিদে কেউ ইবাদত করছেন, কেউবা মাজার জিয়ারত ও পার্শ্ববর্তী কবরস্থান জিয়ারত করছেন। মাজার এলাকায় ঘুরাঘুরিও করছেন অনেকেই।
এ রাতকে কেন্দ্র করে মাজারের বাইরের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের টুপি, আগরবাতি, মোমবাতি, আতর গোলাপজল, তাসবীসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন আজ ভালো বেচাকিনি হচ্ছে তাদের।
এছাড়াও মাজারের প্রবেশপথগুলোতে ভিক্ষুক ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা অধিক ভিক্ষা পাওয়ার আশায় এখানে ভিড় জমান। মাজারে আসা লোকজনও কাদেরকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেন।
শাহজালাল (রহ.) মাজারে আগত খাসদগীরের বাসিন্দা এন. এ. আশালতা বলেন, মহান আল্লাহর নিকট বাবার রুহের সন্তুষ্টি চেয়ে কবর জিয়রত ও এবাদতের জন্য এসেছেন। খোদা যেন পরিবারকে ভালো রাখেন। বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত রাখেন। সারাদেশের মানুষকে যেন ভালো রাখেন। এমনটাই কামনা করে আল্লাহকে জানাতে এসেছেন।
শাহপরান (রহ.) মাজারে আসা এক মুসল্লী যুবক জানান, প্রতি বছরই শবে বরাত উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণরা আসেন সিলেটের এই ওলির মাজারে।
এ রাতকে কেন্দ্র করে আচার-ক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রাতে অনেকেই বাড়িতে নানা রকম হালুয়া ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় খাবার।