গ্রুপ অন সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে৷ ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

আপলোড সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০১:১১:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০২:০৮:২০ অপরাহ্ন
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
 
গ্রুপ অন সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী খন্দকার সোহেল কুষ্টিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। 
 
 
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাবের জেলা কার্যালয় পরিমল টাওয়ারের ৪র্থ তলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
 
 
এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশের দায়িত্বহীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী খন্দকার সোহেল ইসলাম । 
 
 
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ভুক্তভোগী খন্দকার সোহেল অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক ইজারাপ্রাপ্ত মোঃ নাসির উদ্দিন গত বছরের ২৮ মে ২০২৫ তারিখে নিজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য গোয়ালন্দ–পাকশী নৌ চ্যানেলে চলাচলকারী নৌযান থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের দায়িত্ব সংক্রান্ত একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত ওই চুক্তির বিপরীতে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৩১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এছাড়া দৈনিক কালেকশন বাবদও বিপুল অর্থ তাকে প্রদান করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে জমা দেওয়া টাকা হয়ে দৈনিক কালেকশনের টাকা কাটা শুরু করলে তিনি নতুন করে  অন্য ব্যাক্তির সাথে চুক্তি করে। 
 
চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে মোঃ নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে গোয়ালন্দ ঘাট অন্য এক ব্যক্তির কাছে অধিক মূল্যে হস্তান্তর করেছেন। একই সঙ্গে চুক্তিভুক্ত এলাকাগুলোতে অন্য লোকজন দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে। এতে তার নিয়োজিত কর্মচারীরা মারধর, ভয়ভীতি ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী নৌ পুলিশের মাধ্যমে খন্দকার সোহেল ইসলাম ও তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
 
পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি আইনগত সহায়তা গ্রহণ করে গত বছরের ১৩ নভেম্বর, ২৭ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ধারাবাহিকভাবে তিনটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তবে প্রতিপক্ষ কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ লিগ্যাল নোটিশে সাত দিনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ইজারা স্থান বুঝিয়ে দেওয়া অথবা গ্রহণকৃত অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘোষণা দেওয়া হয়।
 
খন্দকার সোহেল উল্লেখ করেন, বিষয়টি লিখিতভাবে নৌ পুলিশকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নৌ পুলিশের এমন দায়িত্ব অবহেলা শুধু একজন ভুক্তভোগীকেই নয়, বরং পুরো ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
 
ভুক্তভোগী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় তিনি বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নৌপথ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণার আশঙ্কা থেকেই যাবে।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com