দেবীগঞ্জে বালু মহালের ডাম্পিং ইয়ার্ড: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ঘটনার আতঙ্ক

আপলোড সময় : ৩১-১২-২০২৫ ০৮:১৯:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-১২-২০২৫ ০৯:১৫:৫৫ অপরাহ্ন


মোঃ আকতারু জ্জামান, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার পাকুড়িতলা থেকে সোনাপোতা পর্যন্ত সড়কটি এখন পরিবেশ দূষণ ও সড়ক দুর্ঘটনার বড় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বালু মহালের ডাম্পিং ইয়ার্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ধুলাবালির দাপট, নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চলাচল ও নিরাপত্তাহীনতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। করতোয়া সেতুর পশ্চিম পাশে পাকুড়িতলা এলাকায় একদিকে বোদাগামী আঞ্চলিক মহাসড়ক ও অন্যদিকে মাড়েয়াগামী গ্রামীণ সড়কের সংযোগস্থলে একটি বালু ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী করতোয়া নদীর সোনাপোতা মৌজা থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ট্রাক্টরে করে এখানে বালু আনা হচ্ছে। ফলে পাকুড়িতলা থেকে সোনাপোতা পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে বালুর আস্তরণ জমে থাকছে এবং চারপাশ ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে বালু জমে থাকায় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে, যা মোটরসাইকেল, সাইকেল ও ভ্যান চালকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। টাকাহারা–দেবীগঞ্জ সড়কে বালুর কারণে দ্রুত রোগী পরিবহন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান অটোচালক সতীশ। তিনি বলেন, “গতি বাড়ালেই অটো দুলতে থাকে।



পঞ্চগড়–দেবীগঞ্জ সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী সরকারি চাকরিজীবী রাশেদ বলেন, “বালুর কারণে মোটরসাইকেলের চাকা দেবে যায়, ভারসাম্য রাখা কঠিন।” দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শিমূল ও সাঈদ জানান, প্রায় দুই কিলোমিটার ধুলোমাখা সড়ক পার হতে গিয়ে চোখ ও মুখে ধুলা ঢোকা এড়ানো যায় না। শালডাঙ্গা এলাকার বৃদ্ধ শমসের আলী বলেন, “নিয়মিত যাতায়াতে চোখ জ্বালা করে, কাশি শুরু হয়।” এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, ধুলাবালির কারণে বায়ুদূষণ বেড়ে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসসহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। অন্যদিকে বোদাগামী আঞ্চলিক মহাসড়কে বালু লোডের জন্য ট্রাক ও ট্রাক্টর দাঁড় করিয়ে রাখায় এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। এর আগে গত ২৯ মে এশিয়ান হাইওয়েতে বালু লোডের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের কারণে থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাত বছরের এক শিশুও ছিল। কিছুদিন নজরদারি থাকলেও বর্তমানে আবারও মহাসড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে বালু লোড করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।



বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, বালুমহালের শর্ত অনুযায়ী জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়-এমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ। পাকুড়িতলায় বালু ব্যবসাকে ঘিরে পরিবেশ দূষণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি দ্রুত ডাম্পিং ইয়ার্ড অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানান। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পঞ্চগড় জেলা শাখার সমন্বয়ক ডিজার হোসেন বাদশা বলেন, রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও প্রশাসনের দায়িত্ব। তবে ইজারাদারের প্রতিনিধি সোলেমান হক দাবি করেন, বালু উত্তোলন ও পরিবহনে সব নিয়ম মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগকে সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে বালুর স্তূপ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।



 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com