মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ দিনকে দিন আরও তীব্র হচ্ছে। সকালে হিমেল হাওয়া, ঘন আর্দ্রতা আর সারাদিনের ঠান্ডা অনুভূতিতে জেলার মানুষ শীতের উপস্থিতি স্পষ্টই টের পাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও এটি গতকালের তুলনায় সামান্য বেশি, তবে শীতের কামড় কোনোভাবেই কমেনি। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ-যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভোর থেকেই প্রবল ঠান্ডা বাতাস বইছিল। তবে সকাল গড়াতে গড়াতে একটু হালকা রোদের দেখা মেলে, কিন্তু রোদও যেন শীত কাটাতে ব্যর্থ হয়। মঙ্গলবার ও বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর দিনের সর্বোচ্চ ছিল প্রায় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “শীত ধীরে ধীরে পঞ্চগড়ে নামছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই শীত আরও তীব্র হবে। হালকা থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। রাতের তাপমাত্রা আরও কমবে, তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।” শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
মঞ্জুরুল হক, (কৃষক) “সকালের দিকে মাঠে যাওয়া যায় না। জমিতে কাজ করতে হাত-পা জমে আসে। তবে আলু আর ভুট্টা চাষের জন্য এ সময়টা ভালো। তাই কষ্ট করেই কাজ করতে হচ্ছে।”
রাবিয়া বেগম, পঞ্চগড় শহরের বাসিন্দা“ শিশু আর বৃদ্ধদের নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। অনেকেই ইতোমধ্যে ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছে। গরম কাপড় বের করতে হয়েছে।”
সোহেল রানা, কলেজছাত্র: “সকালে ক্লাসে যেতে খুব ঠান্ডা লাগে। কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে বাইকে চলাচল করা কঠিন হয়ে গেছে।”
দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “রাতে ঘুমানোই কঠিন হয়ে যায়। দিনমজুরদের কাজও কমে গেছে। শীত বাড়লে আমাদের কষ্টও বাড়ে।”
শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে-এমন পূর্বাভাস সামনে রেখে স্থানীয় দোকানগুলোতে কম্বল, সোয়েটার ও শীতবস্ত্র কেনাকাটা বেড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষজন সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় আছে।