নিজেকে গায়িকা দাবি করা বর্ষা চৌধুরীর অনেক পরিচয়- উদ্যোক্তা, অভিনেত্রী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সুখ-দুঃখের কথা ও একাধিক বিয়ে করে প্রায়ই আলোচনায় আসেন তিনি।
আজ তার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় সাংবাদিক আকাশ নিবিরের করা প্রতারণা করে বিয়ে ও হত্যা চেষ্টা মামলায় চার্জ গঠনের আদেশ দেয়া হয়।
২২ অক্টোবর (বুধবার) আনুমানিক দুপুর ১২ টার দিকে, বাদী ও বিবাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এর ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মাসুম মিয়া ১৩ নং আদালতে আসামী পক্ষের আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৩১/২০২৫ ইং, সিআর মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ থাকলে বিবাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২২ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই মামলার বাদী সাংবাদিক আকাশ নিবির নিজে। তিনি বলেন, বর্ষা চৌধুর ওরফে সোমা আক্তার প্রতারণ করে একাধিক প্রেম, বিয়ে ও পরকীয়া করে মানুষের কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও আমাকে সহজ সরল পেয়ে এবং নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে গত ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে ঢাকা আইনজীবী সমিতির এনেক্স বিল্ডিং ২ এর ৫ম তলা ৬০০২ নং রুমে অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া ও ২ জন স্বাক্ষীর সম্মতিতে বিয়ে সম্পূর্ণ করেন এবং আমার মগবাজার বাসায় ২ মাস ৫ দিন ঘর সংসার করেন। পরে তা অস্বীকার করলে নিজে বাদী হয়ে চারটি ধারায় মামলা দায়ের করি। আজ তার প্রতিকার পেলাম। এখন স্বাক্ষী প্রমাণ হাজির করে এই বর্ষা চৌধুরী মিনিমাম ৭ বছর জেল দেখতে চাই।
আদালতে আসামী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বর্ষা চৌধুরী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি একজন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী, জনপ্রিয় মডেল ও জনপ্রিয় নায়িকা। দুটি সিনেমায় নায়িকা হিসেবে কাজ করেছি এছাড়াও আগামী বছর আরও দুটি সিনেমা মুক্তি পাবে। আজ আমার বিরুদ্ধে এই মামলার চার্জ গঠন করলে বাংলাদেশের সকল জনপ্রিয় নায়িকাদের সুনাম ক্ষুন্ন করা হবে।
তবে আসামী বর্ষা চৌধুরী বক্তব্য শুনে পরে এবং মামলা পর্যবেক্ষণ করে চার্জ গঠনের আদেশ দিবেন বলে জানান।
অন্যদিকে, আদালতে আসামী বর্ষা চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে লিখেন, বিনীত নিবেদন এই যে, ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ : মামলার বাদী পেশায় একজন সাংবাদিক এবং আসামী সংগীতশিল্পী। ইহারই ধারাবাহিকতায় তাদের সাথে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং বাদীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে আসামী বাদীকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। ইহার পর গত ২৯/১০/২৪ তারিখে বিকাল ৪:০০ ঘটিকায় ২ নং সাক্ষীর উপস্থিতিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের এনেক্স বিল্ডিং -২ এর ৬০০২ নং রুমে আসামী ও বাদীর স্বাক্ষর পূর্বক কাজীর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করে। মামলার বাদীর অনুমতি ব্যতীত মুন্নাখানের সহিত ১০/০১/২৫ তারিখে সিলেটে ফটোশুটের শ্যুটিং এ যায় পরবর্তীতে আসামী নিজে বিগত ১৬/০১/২৫ তারিখে ফোন দিয়ে আসামীর বাসায় যেতে বলে।
এছাড়াও আবেদনে লিখেন, বিগত ১৮/০১/২৫ তারিখে রাত ১১:৩০ ঘটিকায় আসামীর বাসায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের কাগজপত্র ফটোকপি ও ছবি চায়। পরবর্তীতে বাদী আসামীকে তার বাসায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে আসামী বাদীর উপর রাগান্বিত হয়ে বলে যে, আমি তোর সংসার করবো না। বেশী বাড়াবাড়ি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আসামী পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং বাদীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে।
এছাড়াও আইনজীবী আবেদন এ কিছু পয়েন্ট ও যুক্তি দিয়ে লিখেন,
১. অত্র মামলার দণ্ডবিধির ধারার সাথে আরজীর কিংবা প্রতিবেদনের কোন মিল না থাকায় উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন হওয়ার কোন উপাদান নাই। বিধায় আসামী অত্র মামলার দায় হইতে অব্যহতি পাওয়ার হকদার।
১. অত্র মামলার দণ্ডবিধির ধারার সাথে আরজীর কিংবা প্রতিবেদনের কোন মিল না থাকায় উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন হওয়ার কোন উপাদান নাই। বিধায় আসামী অত্র মামলার দায় হইতে অব্যহতি পাওয়ার হকদার।
২. অত্র মামলার আসামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনায়ন করা হয়েছে ফৌ:কা:বি ১৬১ ধারার জবানবন্দি সিসি ক্যামেরায় পারিপার্শ্বিকতার অবস্থা, এমনকি মহিলা আসামী বিবেচনায় একজন পুরুষকে বিয়ে করে অস্বীকার করে প্রতারণা করেছে তাহা বিশ্বাসযোগ্য নয়। prima facie case made out হয় নাই। ফলে আসামী মামলা হইতে অব্যাহতি পাওয়ার হকদার।
৩. উপরোল্লিখিত আরজিতে উল্লেখিত ঘটনা আসামী কর্তৃক ঘটে নাই। এরপরেও যদি আসামীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন হয় তা যান্ত্রিক হবে এবং মাননীয় আদালতের সময় ক্ষেপণ ছাড়া কিছুই নয়। এমনকি আসামীর সহিত বাদীর যে, বিবাহ হয়েছে সেই বিবাহের নিকাহনামা নেই।
৪. উপরোক্ত আসামীর বিরুদ্ধে উল্লেখিত অপরাধ বিষয়ে মামলায় material কোনো কিছুই নাই। ফলে উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন হওয়ার উপাদান নাই। বিধায় আসামী অব্যাহতি পাওয়ার হকদার।
৫. উপরোক্ত মামলার দিন, তারিখ, সময় ঘটনার সুস্পষ্টতা না থাকায় ফৌ: কা : বি আইনের ২২২ ধারায় Bar থাকায় আসামীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন হওয়ার যৌক্তিক কোন কারণ নাই।
৬. বাদী ও আসামীর মধ্যে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা চলমান। ফলে আসামী অত্রমামলা হইতে অব্যাহতি পাওয়ার হকদার।
৭. অন্যান্য বক্তব্য সমূহ শুনানীকালে বাচনিকভাবে উপস্থাপন করা হইবে।
অতএব, হুজুর আদালতের নিকট আকুল আবেদন এই যে, উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে : উক্ত আসামীকে অত্র মামলার দায় হইতে অব্যাহতি দানের ন্যায়ানুগ আদেশে আনা হয়।
এবং এরুপ মহানুভবতার জন্য প্রার্থী মহোদয় - সমীপে চিরকৃতজ্ঞ থাকিবো।
এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে তা নাকচ করে আগামী ১২ মার্চ ২০২৬ পরবর্তী স্বাক্ষীর জন্য দিন ধার্য্য করেন।
প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক আগে দ্বিতীয় স্বামী ব্যান্ডশিল্পী রুমি রহমানের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েন বর্ষা চৌধুরী। এর মধ্যে এক সন্তানের বয়স তখন সবে দেড় মাস। অন্যদিকে বর্ষার সঙ্গে রুমিরও দ্বিতীয় সংসার এটি। দ্বিতীয় স্বামীকে হারানোর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই রুমিকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট ও ভিডিও পোস্ট করে আসছিলেন বর্ষা। কিন্তু হঠাৎই সবাইকে চমকে দিয়ে চলতি বছরের ১৬ মার্চ তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন গায়িকা, অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা বর্ষা। এছাড়াও বিয়ে করেন সাংবাদিক আকাশ নিবিরকে। এরআগে পাত্র ঢাকাই সিনেমার পরিচিত মুখ রাসেল মিয়াকে বিয়ে করে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।