অনাথ আশ্রম এতিমখানা বৃদ্ধাশ্রম ও সরকারি বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শত কোটি টাকার মালিক রংপুরের সাবেক ত্রাণ কর্মকর্তা মোতাহার

আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৫ ০৬:৫৩:১৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৫ ০৬:৫৩:১৯ অপরাহ্ন



নিজস্ব প্রতিবেদক 

সরকার প্রতিটা জেলায় অসহায় দুস্থ এতিমখানা বৃদ্ধাশ্রম অনাথ আশ্রমের জীবন যাপনের মান উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয় কিন্তু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার জন্য সেই বরাদ্দকৃত অর্থ অসহায় মানুষগুলোর কাছে পৌঁছায় না, অধিকাংশ জেলায় বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচার করে বিবেককে বিসর্জন দিয়ে  সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করে অনেক জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা শূন্য থেকে হয়ে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক, এই সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ অভিযোগ কখনো কার্যকর হয় না কারণ এই অসহায় মানুষগুলোর আর্তনাদ অনেক সময় সরকারের উপর মহলে পৌঁছায় না, আবার অনেকের নামে অভিযোগ জমা হলো অবৈধ অর্থের প্রভাবে তা অদৃশ্য করে দিয়ে থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে অনেকেই ।তবে সম্প্রতি রংপুর জেলার সাবেক  ডিআর'ও মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এসেছে। 



রংপুর জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে: গংগাচড়া, পীরগাছা, কাউনিয়া, তারাগঞ্জ, রংপুর সদর, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ এবং মিঠাপুকুর উপজেলা এই প্রতিটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইওদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ করে সই করতেন মোতাহার হোসেন ।




ডিআইও এবং পিআইও মিলে টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করে আত্মসাৎ করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ, অভিযোগ আছে রংপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন (পিআইও) মোতাহার হোসেনের সহযোগিতায় দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এবং তার সকল দুর্নীতির অর্থের বড় একটি অংশ মোতাহার হোসেনকে কমিশন দিতেন, অভিযোগ আছে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিআই ও মতিনের কার্যালয়ের কার্য সহকারী রেজাউল সরকারি বরাদ্দের অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান কিন্তু একাধিক সূত্র বলছে রেজাউলের আত্মসাৎ করা ওই অর্থে বড় একটি অংশ ডিআইও মোতাহার ও পি আই ও আব্দুল মতিন ভাগ পেয়েছেন কিন্তু তারা দুইজন থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।



একই বছর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা পিআইও মনিরুজ্জামান ছিলেন, সবচেয়ে বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর কর্মকর্তা একাধিক অভিযোগ ও তথ্য প্রমান থাকার পরও তার বিরুদ্ধে মোতাহার হোসেন কখনো কথা বলেননি একাধিক অনুসন্ধানী তথ্য বলছে পিআইও মনিরুজ্জামান মোতাহার হোসেনের প্রভাবে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি করেছে ২০২৪ সালের জুন মাসে ব্রিজ নির্মাণ, টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ কাগজ-কলমে শতভাগ দেখিয়ে বিল পাস করে ট্রেজারি অফিসের মাধ্যমে মনিরুজ্জামান নিজ একাউন্টে তিন কোটি টাকা রেখেছিলেন এবং সেই বিল উত্তোলন ও অর্থ আত্মসাতে মোতাহার হোসেন জড়িত ছিলেন, পিআইও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অধিক অভিযোগ ডিআইও মোতাহার হোসেনের কাছে জমা দিলেও তিনি তা আমলে নিতেন না এবং অভিযোগ অদৃশ্য করে দিতেন, স্থানীয় বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন আমরা মনিটরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জেলার কর্মকর্তার কাছে কয়েকবার অভিযোগ দিয়েছে কিন্তু তিনি তা আমলে নেননি কারণ তিনি নিজেও ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ, রংপুর জেলার প্রতিটা উপজেলা থেকে তিনি কমিশন নেন।




অভিযোগ আছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জেলা দুর্যোগ ও পূর্নবাসন প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ বিভিন্ন উপজেলার নামে ভুয়া বরাদ্দ ও ভুয়া বিল ভাউচার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মোতাহার হোসেন।



বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপদস্থ একাধিক মন্ত্রী এমপিদের সঙ্গে সখ্যতা থাকার কারণে রংপুরের ডিআর'ও মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তা কখনো কার্যকর হয়নি দলীয় প্রভাবে, ঘুষ ছাড়া কোন ফাইলে সই করতেন না অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নিম্ন অসহায় মানুষগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন অনেক সময় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সাংবাদিককে ম্যানেজ করে তা প্রত্যাহার করিয়ে নিতেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন উনি একজন লেবাসধারী ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ অর্থ ছাড়া কিছুই বুঝতেন না তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই ক্ষমতার প্রভাবে চাকরিচ্যুত ও শাস্তি মূলক বদলি করেছেন অনেক কর্মতকর্তা কর্মচারীকে, এত বেশি অভিযোগ থাকার পরে মন্ত্রণালয়ের আদেশ তাকে রংপুর থেকে বগুড়ায় বদলি করা হয়েছে বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত আছেন।



অবৈধ অর্থে করেছেন বিশাল সম্পদের পাহাড় মোতাহার হোসেন দিনাজপুর সদরের দক্ষিণ বালুবাড়ী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্র কৃষক ইউনুস আলীর পুত্র, ছিল তাদের একটি ভাঙ্গা টিনের ঘর সরকারি চাকরিতে যোগদানের পরই ভাঙা টিনের ঘর ভেঙে নির্মাণ করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, এলাকাবাসী কয়েকজন বলেন এদের তেমন কোন জমি জমা ছিল না কিন্তু মোতাহার হোসেন চাকরিতে যোগদানের পরেই বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন, রংপুর শহরে রয়েছে একাধিক বাড়ি স্ত্রী ছালেহা খাতুনের নামে, ২ জমজ কন্যা সন্তান উম্মে খাদিজা জান্নাতি নদী ও উম্মে ফাতেমা জান্নাতি তরীর নামে ক্রয় করেছেন রাজধানী ঢাকার রামপুরা উত্তরা ও বনানীতে একাধিক ফ্লাট, এছাড়াও শশুর আব্দুস সুবাহান মিয়া ও শাশুড়ি ফরিদা বেগম সহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে দিনাজপুর রংপুর ও ঢাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন চলাচলের জন্য রয়েছে একাধিক গাড়ি তবে প্রতিটি গাড়ি অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত আছে পরিবার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ।



সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোতাহার হোসেন স্ত্রী সালেহা খাতুন, দুই কন্যা সন্তান উম্মে খাদিজা জান্নাতি নদী ও উম্মে ফাতেমা জান্নাতি তরীর নামে অনুসন্ধান শুরু করেছে, দুদক রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ফেরদৌস রায়হান বকসীকে তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


 
মোতাহার হোসেনের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিবরণ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে একটি ভিডিও প্রতিবেদন আসছে।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com