ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ডে'ঙ্গুরোগীরা পাচ্ছেন না।সরকারি ম'শারি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৯-০৩ ২৩:৪৯:৫২
বরিশালে ডে'ঙ্গুরোগীরা পাচ্ছেন না।সরকারি ম'শারি! বরিশালে ডে'ঙ্গুরোগীরা পাচ্ছেন না।সরকারি ম'শারি!
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: বরিশালজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর মিছিল। এরই মধ্যে রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি। আর মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ। চাপ বাড়লেও বৃহত্তর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজসহ বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা হয়নি। চুরির অজুহাতে আক্রান্ত রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না সরকারি মশারি। যারা মশারি নিয়ে আসছেন তারাও টাঙানোর ব্যবস্থা না থাকায় মশারি ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে হাসপাতালেই ডেঙ্গুর সংক্রামণ নিয়ে শঙ্কিাত অন্য রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা সম্ভব হচ্ছে না। আর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চুরির ভয়ে রোগীদের মাঝে মশারি বিতরণ করছেন না নার্সরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৬ হাজার ৭৯১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১০ জন আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময় মৃত্যু হয়েছে একজনের। সবশেষ ১ সেপ্টেম্বর রাতে মৃত্যু হয় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা উত্তম ঘরামি (৫৩) নামের। ব্যক্তির। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। যাদের মধ্যে ৮ জনই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ঝালকাঠি ও পিরোজপুর হাসপাতালে একজন করে মারা গেছেন। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ৩৮২ জনের মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৭ জন। বাকি ৬ হাজার ৩৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তের দিক থেকে পিরোজপুর এবং ঝালকাঠি জেলা শীর্ষে আছে। এর মধ্যে পিরোজপুরে ১ হাজার ৮৩৬ এবং ঝালকাঠি জেলায় ১ হাজার ৬২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল জেলায় ৭১২ জন, পটুয়াখালী জেলায় ৬৬১ জন, ভোলায় ৩৫৯ জন এবং বরগুনায় ৯২১ জন। এর বাইরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১৮ জন এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। সরেজমিনে বুধবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালটির ৬টি পৃথক মেডিসিন ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সাথে রেখেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রেগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শয্যায় মশারি টাঙানো নেই। রোগীরা বলছেন- হাসপাতাল থেকে তাদের মশারি দেওয়া হচ্ছে না। আবার দু-একজন যারা পাচ্ছে তারা মশারি টাঙানোর জায়গা পাচ্ছেন না। চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত নেছারাবাদের বাসিন্দা মধ্যবয়সী নারী তহমিনা বেগম বলেন, “আমি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোন মশারি দেয়নি। বাড়ি থেকে মশারি এনেছিলাম। কিন্তু টাঙানোর কোন ব্যবস্থা না থাকায় বালিশের নিচে রেখে দিয়েছি।” কাঁঠালিয়া থেকে আসা মো. সোহবাহান গাজী বলেন, “জ্বর ওঠার পর ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়েছি। কিন্তু জ্বর না কমায় উপজেলা হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখানে চিকিৎসায় আগের থেকে ভালো বুঝছি। চিকিৎসকরা বলছেন- সব সময় মশারি টাঙিয়ে রাখতে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোন মশারি দেওয়া হয়নি।” পেটে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা লাল মিয়া বলেন, “এখানে ডেঙ্গু রোগী আর সাধারণ রোগী একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা মশারি টাঙাচ্ছেন না। তাদের মাধ্যমে আমরাও আক্রান্ত হতে পারি। এভাবে এক সাথে থাকলে ভয় লাগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।” মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগী কবিতা বেগম বলেন, “আমি তিনদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার পাশেই তিন-চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এখানে অনেক মশা। কিন্তু হাসপাতাল থেকে রোগীদের মশারি দেয়নি। এখন ভয় লাগছে তাদের মাধ্যমে আমরাও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত না হই।” হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে দায়িত্বরত নার্সরা বলেন, “মশারি না দেওয়ার বিষয়টি ঠিক না। রোগীরা সচেতন না। মশারি দিলেও তারা টাঙান না। আবার সুস্থ হয়ে যাওয়ার সময় ব্যাগে ভরে মশারি নিয়ে যায়। এ কারণে নার্স বা ওয়ার্ড ইনচার্জদের বিপদে পড়তে হয়। হিসাব দিতে না পারলে কৈফিয়ত দিতে হয়। তাছাড়া শয্যাগুলোর দুই পাশে মশারি টাঙানোর জায়গায়ও নেই। এ কারণে সব রোগীকে মশারি দেওয়া সম্ভব হয় না।” বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা বলেন, “আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত মশারি রয়েছে। প্রতিটি মেডিসিন ওয়ার্ডেই মশারি দেওয়া। তবে রোগীদের মাঝে মশারি দেওয়া নিয়ে নার্সদের মধ্যে কিছুটা অনিহা রয়েছে। কেননা রোগীরা সুস্থ হয়ে মশারি বাড়িতে নিয়ে যায়। এটা নিয়ে নার্সদের কৈফিয়ত দিতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদূর্ভাব একটু বেশি থাকে। কিন্তু আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ছয়টি মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর আলাদা কর্ণার করে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হয় না। বেডের সাথে স্টান না থাকায় মশারি টাঙানো যায় না। যে কারণে এসব রোগীর মাধ্যমে অন্য রোগীদের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা। রাহাদ সুমন,বরিশাল


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ