যেসব বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলে ঢাকা-দিল্লি নতুন সম্পর্ক হতে পারে, জানালেন নাহিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দিল্লির সংবাদ সম্মেলন ভারত সরকারের মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না—এমন মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না দেওয়া, শেখ হাসিনাকে সেখানে আশ্রয় না দেওয়া, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকারের শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে দলটির পলিসি ও রিসার্চ–বিষয়ক উপকমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশইন না হয় এবং সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ হয়—এসব শর্তের ভিত্তিতেই ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে শেখ হাসিনা যেখানে অবস্থান করছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তবে এর অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসীই বা একে কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটি শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি অবমাননাকর ঘটনা হবে। এতে এই বার্তাই যাবে যে, বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে তার পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।’
সংবাদ সম্মেলনে ‘সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা’ শীর্ষক একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম। এতে বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস–সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ- সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন–পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি এবং নতুন মোড়কে র্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় ও সেগুলোর বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।