ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ , ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ মাস ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে শহীদ মিনারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১৯ ২৩:২০:০২
১০ মাস ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে শহীদ মিনারে ১০ মাস ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে শহীদ মিনারে
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-



নতুন ভবন নির্মাণের কথা বলে ভেঙে ফেলা হয়েছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবন। এর পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনাই অনুমোদন হয়নি। এর খেসারত দিতে হচ্ছে ১৮১ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে। শ্রেণিকক্ষ সংকটে কখনও শহীদ মিনারের বেদিতে, আবার কখনও টিনের ছাপরায় গাদাগাদি করে চলছে পাঠদান। এ চিত্র কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। শ্রেণিকক্ষের অভাবে রোদ-বৃষ্টিতে পাঠ নিতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।

প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় থাকায় দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই নানা অসুস্থতায় ভোগায় এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ের উপস্থিতিতেও। জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষক ও ১৮১ শিক্ষার্থী রয়েছেন। ১৯৯০ সালে দুই কক্ষের একটি ভবন নির্মাণের পর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে পিডি-২ প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়। জরাজীর্ণ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়। পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণের পর ব্যবহারযোগ্য রয়েছে মাত্র দুটি কক্ষ। এর একটি দাপ্তরিক কাজে এবং অন্যটিতে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছে।


ফলে বাকি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নেই। বাধ্য হয়ে শহীদ মিনারের বেদি ও দুটি টিনের ছাপরায় চলছে পাঠদান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাপরার নিচে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে ঘামে ভিজে যাচ্ছে তারা। শিক্ষকরা জানালেন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রায়ই শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীর অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র রোদে বসে ক্লাস করতে গিয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ঝড়বৃষ্টি এলে ক্লাস করা যায় না।’ সহকারী শিক্ষক মোছাঃ আয়েশা আক্তার বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ক্লাস নেওয়াও সম্ভব হয় না। নতুন ভবনের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এর আগে ২০২৪ সালে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট নতুন ভবনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও বরাদ্দ মেলেনি। পরে ২০২৫ সালে আবারও একই ভবনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। অনুমোদন ও বরাদ্দ প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই ওই বছরের ১২ নভেম্বর পুরোনো ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।


প্রধান শিক্ষক মোঃ নুর মোস্তফা বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিলামের মাধ্যমে তা ভেঙে ফেলা হয়। পরে বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য কক্ষের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা কষ্ট হলেও পাঠদানে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। চিলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ওই বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালু রাখতে দুটি অস্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আরও কক্ষ নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পিডি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

শিগগিরই পিডি-৫ প্রকল্প চালু হবে। তখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী। আপাতত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য বিদ্যালয়ে অস্থায়ী টিনশেডের কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ