সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ এর উপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ এর উপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ৮ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপের উপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ব্রিফিং করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আ ন ম শামছুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মো. আব্দুর রব, অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।
সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এর পাঠকৃত লিখিত বক্তব্যটি নিম্নরূপ: বিষয়: পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, উপস্থিত সাংবাদিক বন্ধুগন, আজ আমরা আপনাদের সামনে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এসেছি, যেটি নিয়ে সরকার প্রকাশ্যে কথা বলছে না। চলছে ষড়যন্ত্র, নথির আড়ালে ও বন্ধ দরজার ভিতরে। বিষয়টি হচ্ছে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের কাজ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার নতুন নীতিমালা তৈরির প্রসঙ্গ। অথচ এই সিদ্ধান্তের চড়া মূল্য দিতে হবে প্রতিটি মানুষকে, প্রতিটি বাসের ভাড়ায়, প্রতিটি সেচপাম্পের ডিজেলে, প্রতিটি চালের বস্তার দামে। হঠাৎ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়ার পর জ্বালানি খাতকে বেসরকারি কোন শিল্প গ্রুপের হাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার চার দিনের মাথায় বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য চার দিনের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই: এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দূর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স। ঘটনা যা ঘটছে: গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন চট্টগ্রামে জরুরি সভা করে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছে, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রয় ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার "পাঁয়তারা" চলছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা, যমুনা ও এলপিজির সিবিএ নেতারা একবাক্যে বলেছেন—এটি সরকারের জন্য আত্মঘাতী এবং দেশের জন্য বিপজ্জনক। লক্ষ্য করুন, এই অভিযোগ কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তোলেনি। তুলেছেন সেই মানুষগুলো, যারা তিন দশক ধরে এই খাতের ভেতরে দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। তারা বলছেন, সরকারের ভেতরেই "ঘাপটি মেরে থাকা" একটি দূর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী চক্র এই সিদ্ধান্ত সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে। আমরা প্রশ্ন করছি, যে খসড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কাজ হচ্ছে, তা জনগণের সামনে নেই কেন? আমাদের পক্ষ থেকে উদ্বেগের বিষয়গুলো হচ্ছে: ১. এটি নতুন কিছু নয়, এটি পুরোনো লুটের দ্বিতীয় সংস্করণ পতিত আওয়ামী লীগ সরকার তার শেষ সময়ে, ক্ষমতা হারানোর মাত্র দুই মাস আগে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল বিক্রির নীতিমালা করেছিল এবং সেই সুবিধা পেয়েছিল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। আজ যদি একই মডেল ফিরে আসে, তাহলে জুলাইয়ের রক্তের অর্থ কী ছিল? ২. একচেটিয়া চক্র ভাঙা হচ্ছে না, বরং হচ্ছে একতরফা হাতবদল: বলা হচ্ছে, বিপিসির একচেটিয়া অধিকার ভাঙলে প্রতিযোগিতা আসবে, দাম কমবে। বাস্তবতা হলো, জ্বালানি তেল আমদানির জন্য দরকার গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বিশাল ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন ও শত শত কোটি ডলারের ব্যাংক লাইন।
বাংলাদেশে এই সক্ষমতা আছে হাতেগোনা তিন-চারটি গোষ্ঠীর। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে তৈরি হবে বেসরকারি একচেটিয়া যার ওপর জনগণের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, সংসদের কোনো জবাবদিহি থাকবে না, কোনো নিরীক্ষা থাকবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান খারাপ চললে তাকে সংস্কার করা যায়। বেসরকারি কোম্পানি দাম বাড়ালে জনগণের হাতে কিছুই থাকে না। ৩. যে যুক্তিতে বেসরকারিকরণ, সেই যুক্তিই মিথ্যা বলা হচ্ছে, বিপিসি অদক্ষ, বিপিসি লোকসানি, তাই বেসরকারি খাত দরকার। তথ্য বলছে বিপিসি ২০২৩-২৪ সালে নিট মুনাফা ছিল ৩,৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে মুনাফা ছিল ২,০৫০ কোটি টাকা। অর্থবছর বিপিসির ফলাফল সূত্র ২০২১-২২ লোকসান ১,৯৮৩ কোটি টাকা অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২-২৩ লোকসান ৭,০৮৭ কোটি টাকা অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩-২৪ নিট মুনাফা ৩,৯৪৩ কোটি টাকা বিপিসি ২০২৪-২৫ মুনাফা ২,০৫০ কোটি টাকা সিপিডি / সংবাদমাধ্যম অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানকে "ব্যর্থ" বলে বেচে দেওয়ার আয়োজন হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠান পরপর দুই অর্থবছরে হাজার কোটি টাকার মুনাফা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে। চলতি বছরের সংকট — হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া, বিশ্ববাজারে দৈনিক এক কোটি ব্যারেল সরবরাহ ঘাটতি—এটি বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা নয়, এটি ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা। জ্বালানিমন্ত্রী নিজেই সংসদে স্বীকার করেছেন, বিপিসি এখন দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে — কারণ বিশ্ববাজারে দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরও ভোক্তার কথা ভেবে দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। এখন প্রশ্ন, এই ভর্তুকির বোঝা বেসরকারি কোম্পানি বহন করবে? নাকি প্রথম দিনেই লিটারে টাকা বাড়াবে? ৪. যুদ্ধকালীন সংকটকে বেসরকারিকরণের অজুহাত বানানো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটকে ঢাল বানিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে তড়িঘড়ি করে। গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে — সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র জমার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করা হবে। সংকটকালে দ্রুততা প্রয়োজন আমরা তা অস্বীকার করি না। কিন্তু ৪২ দিনের দরপত্র ১০ দিনে নামালে আন্তর্জাতিক বড় সরবরাহকারীরা অংশ নেওয়ার সুযোগই পায় না। ফল — কম দরদাতা, বেশি দাম, এবং সিন্ডিকেটের জন্য দূর্নীতির প্রশস্ত রাস্তা। দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। ৫. বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজার এই বিপুল বাজার যদি কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে যায়, তাহলে প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়তি মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার লুণ্ঠনে পরিণত হয় এবং তা আইনসিদ্ধ হয়ে যায়। ৬. জ্বালানি নিরাপত্তা রাষ্ট্রের হাতছাড়া হবে জ্বালানি তেল সাধারণ পণ্য নয়।
এটি প্রতিরক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও বিমান চলাচলের রক্তপ্রবাহ। দেশে একটিমাত্র শোধনাগার, ইস্টার্ন রিফাইনারি। মজুত সক্ষমতা সীমিত। এমন ভঙ্গুর অবস্থায় সরবরাহ শৃঙ্খল বেসরকারি হাতে গেলে: ক) দুর্যোগ বা যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র কাকে নির্দেশ দেবে? খ) কোম্পানি যদি বলে "লাভ হচ্ছে না, তেল আনব না" তখন কী হবে? গ) প্রত্যন্ত চর, হাওর, পাহাড়ে অলাভজনক রুটে তেল পৌঁছাবে কে? ঘ) বিপিসি যা লোকসান দিয়েও করে, বেসরকারি কোম্পানি কেন করবে? যেদিন সিদ্ধান্তটি কোম্পানির বোর্ডরুমে চলে যাবে, সেদিন থেকে বাংলাদেশ আর নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার মালিক নয়। ৭. শ্রমিকের কণ্ঠরোধের চেষ্টা ফেডারেশনের মহাসচিব অভিযোগ করেছেন শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়ে। অর্থাৎ যারা এই বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের আইন সুরক্ষা আগেভাগে কেড়ে নেওয়ার প্রস্তুতি। একদিকে সরকার আন্তর্জাতিক মহলে শ্রম অধিকারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে ঘরের ভেতরে শ্রমিক নেতার মুখ বন্ধ করার আয়োজন করছে। এই দ্বিমুখিতা আমরা প্রত্যাখ্যান করি। সরকারের কাছে আমাদের সরাসরি প্রশ্ন: ১. বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের কোনো খসড়া নীতিমালা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে কি না — হ্যাঁ অথবা না? ২. থাকলে সেই খসড়া আজই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে কি না? ৩. কোন সমীক্ষা, কোন খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত? সেই সমীক্ষা প্রকাশ করা হবে কি? ৪. কোন কোন কোম্পানি এ পর্যায়ে এ বিষয়ে আবেদন বা প্রস্তাব দিয়েছে? তাদের নাম প্রকাশ করা হবে কি? ৫. দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে ১০ দিনে নামানোর সিদ্ধান্তের কারিগরি ভিত্তি কী? এতে দরদাতার সংখ্যা কমেছে কি না তা প্রকাশ করা হবে কি? ৬. বেসরকারি আমদানিকারক এলে ভোক্তাপর্যায়ের দাম কে নির্ধারণ করবে, বিইআরসি, নাকি কোম্পানি? ৭. পতিত সরকারের আমলে যে বেসরকারি কোম্পানিকে জ্বালানি তেল বিপণনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়ন হয়েছে কি? না হয়ে থাকলে কেন? এটি শুধু আমাদের কথা নয়, স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? সাংবাদিক বন্ধুরা, কেউ যেন না ভাবেন এটি নিছক বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য। দেশের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তা সংগঠনগুলো একই কথা বলছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম স্পষ্টভাবে বলেছেন, জ্বালানি এমন একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যা মুনাফা করার মতো পণ্য নয়। তাঁর মতে, এই কার্যক্রম যত বেশি সরকারের অধীনে এবং সীমিত মুনাফার মধ্যে পরিচালিত হয়, ততই মঙ্গল — তাই জ্বালানি খাত সরকারের অধীনেই থাকা উচিত। উল্লেখ্য, বিপিসির মুনাফার যে হিসাব আমরা উপস্থাপন করেছি, সেটিও সিপিডিরই গবেষণা থেকে নেওয়া। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)- জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বহু বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, জ্বালানিকে মুনাফার খাত নয়, সেবাখাত হিসেবে ঘোষণা করে কস্ট-প্রাইস ভিত্তিতে সরবরাহ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন কোম্পানিগুলো কত মুনাফা করছে এবং সেই মুনাফা থেকে রাষ্ট্র কত পাচ্ছে, সরকারকে তা স্পষ্ট করে বলতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন — আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেই, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই আইন ভাঙছে। গত দেড় দশকের জ্বালানি নীতিকে তিনি সরাসরি "অলিগার্ক সৃষ্টি করে লুণ্ঠনের" নীতি বলে চিহ্নিত করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানার মূল্যায়ন, বাংলাদেশের জন্য এখনো এমন বেসরকারি ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় হয়নি। কোনো বেসরকারি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দিলে এলপিজি খাতে যা ঘটেছে, তারই পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। বেসরকারি সিন্ডিকেটের দাপটে সাধারণ মানুষ সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারেনা। অর্থাৎ সরকার দাম ঘোষণা করে, সিন্ডিকেট দাম আদায় করে। এটিই বাংলাদেশের বাস্তবতা। ডিজেল-পেট্রোলের ক্ষেত্রে একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হলে ক্ষতিটা হবে জাতীয় মাপের। প্রক্রিয়া কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু। গত ২ আগস্ট বাঙ্কারিং নীতিমালায় পরিবর্তন এনে মেরিন ফুয়েল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রকাশ্যে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ। এবং সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে জাতিকে কিছু জানানো হয়নি। আমাদের দাবি: ১. পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সব উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। ২. খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ্যে উন্মুক্ত করতে হবে এবং কমপক্ষে ৬০ দিনের জনমত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। ৩. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি করতে হবে, যেখানে বিরোধী দল, ক্যাব, সিপিডি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক ফেডারেশন ও ভোক্তা প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ৪. বেসরকারিকরণের বদলে বিপিসির সংস্কার — স্বাধীন নিরীক্ষা, বোর্ডে পেশাদার নিয়োগ, ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি বাধ্যতামূলককরণ, প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণের তথ্য উন্মুক্তকরণ। ৫. ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) ও কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনি সুরক্ষা খর্ব করার সব সুপারিশ প্রত্যাহার করতে হবে। উপসংহার: সাংবাদিক বন্ধুরা, আমরা বাজার অর্থনীতির বিরোধী নই। আমরা বেসরকারি বিনিয়োগেরও বিরোধী নই। আমরা বিরোধী জবাবদিহিহীন হস্তান্তরের এবং দূর্নীতির সুযোগ বিস্তারের।
প্রতিযোগিতা মানে একচেটিয়া হাতবদল নয়। সংস্কার মানে প্রতিষ্ঠান মেরামত, প্রতিষ্ঠান বিক্রি নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা মানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়। আমরা চাই সরকার নিজেই এই ভুল পথ থেকে সরে আসুক। জনগণের সম্পদ জনগণের হাতেই থাকবে। সবাইকে ধন্যবাদ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স