ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০ বছর পর কুড়িগ্রামের এক বাজারে প্রথমবারের মতো গরুর মাংস বিক্রি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১৯ ১৪:৩৫:১২
৫০ বছর পর কুড়িগ্রামের এক বাজারে প্রথমবারের মতো গরুর মাংস বিক্রি শুরু ৫০ বছর পর কুড়িগ্রামের এক বাজারে প্রথমবারের মতো গরুর মাংস বিক্রি শুরু
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো গরুর মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাট বাজারে। নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুম্মার নামাজের পর বাজার সংলগ্ন জামে মসজিদের সামনে ৬০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করা হয়। এলাকা‌টি হিন্দু অধ‌্যু‌ষিত হওয়ায় এর আগে কখনো গরু জবাই করা হয়‌নি।
 
সম্প্রতি ডাকনিরপাট বাজারে গরু জবাই করার উদ্যোগ নি‌লে দুই সম্প্রদা‌য়ের মানু‌ষের ম‌ধ্যে চ‌লে আলোচনা-সমা‌লোচনা। এ ঘটনায় জনপ্রতি‌নি‌ধি, প্রশাসন এবং এলাকাবাসীর ম‌ধ্যে একা‌ধিক বৈঠকও হয়।
 
এলাকাবাসী জানান, গত ১২ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব নেন।
 
পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল বিকেলে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) মোঃ বদরুজ্জামান রিসাদ এবং নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ হিল জামানের উপস্থিতিতে ডাকনিরপাট বাজারসংলগ্ন একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
 
তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি মুসলিম ও হিন্দু (সনাতন) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
 
রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানানো হয়, আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত থাকবে। তবে এ ঘোষণায় উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা বিষয়‌টি নি‌য়ে আপত্তি জানান।
 
পরবর্তীতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) মোঃ বদরুজ্জামান রিসাদ ও ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে গরু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করে দেন। এরপরই জুম্মার নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মাংস বিক্রি শুরু হয়।
 
মোঃ ফিরদাউস হাসান (কুড়িগ্রামী) না‌মে এক মাওলানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে মাংস বিক্রি বন্ধ ছিল। আজ আবার শুরু হয়েছে। মানুষ তাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।
 
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গয়ানাথ সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট ও সুদৃঢ় রয়েছে।
 
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ হিল জামান ব‌লেন, এলাকা‌টি হিন্দু অধ‌্যু‌ষিত হওয়ায় এর আগে কখনও গরু জবাই করা হয়‌নি। ত‌বে এখন সেখানকার দুই সম্প্রদা‌য়ে‌র মানু‌ষের সম‌ঝোতায় মাংস বি‌ক্রি শুরু হয়ে‌ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ