রাহাদ সুমন,বরিশাল প্রতিবেদক:
পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় রঙ লেগেছে বিভিন্ন নৃজনগোষ্ঠীদের বর্ষবরণের সামাজিক উৎসবে। রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি ‘সাংগ্রাই রিলং পোয়ে’ মেতেছেন তরুণ-তরুণীরা। সাংগ্রাইং গানের তালে তালে যুবক-যুবতীরা অংশ নেন এই প্রাণবন্ত জলকেলিতে। একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে তারা প্রতীকীভাবে বিদায় জানান পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট, জীর্ণতা ও গ্লানিকে, আর বরণ করে নেন নতুন বছরকে নতুন স্বপ্নে নতুন আশায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট মাঠে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী এই উৎসব।
ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাব্বত খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসীন সাদেক বলেন, কুয়াকাটায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই ধরনের সামাজিক উৎসবই আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার প্রধান মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, সাংগ্রাই এখন আর শুধু রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সব জাতিগোষ্ঠীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এই উৎসবগুলো আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ বিশ্বাস করে, এই জলকেলির মাধ্যমে জীবনের সব অশুভ শক্তি ধুয়ে-মুছে যায়। একই সঙ্গে এটি তরুণ-তরুণীদের পারস্পরিক পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুন্দর সামাজিক সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত।
উৎসবে ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে একে অপরকে ভিজিয়ে তোলে তরুণ-তরুণীরা। পবিত্র পানি ছিটানোর মাধ্যমে তারা গড়ে তোলে মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। বাদ্যের তালে তালে এই আনন্দঘন আয়োজন পুরো এলাকায় সৃষ্টি করে এক নান্দনিক আবহ। জলকেলির পাশাপাশি চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ হাজারো মানুষ অংশ নেয় এই উৎসবে। ফলে এটি পরিণত হয় পাহাড়ি ও বাঙালির এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আমখোলা পাড়ার বাসিন্দা সীমা রাখাইন বলেন, সাংগ্রাই আমাদের সবচেয়ে আনন্দের উৎসব। এই দিনে আমরা সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। জলকেলির মাধ্যমে আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই এবং সবার সঙ্গে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করি।
কুয়াকাটা রাখাইন উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি এ মং তালুকদার বলেন, সাংগ্রাই আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি তুলে ধরতে চাই। শুধু রাখাইন সম্প্রদায় নয়, সব জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি এখন সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে উদযাপিত হোক।