রাহাদ সুমন
বরিশাল প্রতিবেদক:
এবার রাতের আধার কিংবা অলি গলি নয়, প্রকাশ্য দিবালোকে বরিশাল নগরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ষোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পুলিশ হত্যার বিচারের দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।
প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রলীগের আকস্মিক এই মিছিল নিয়ে নগরীতে উত্তেজনার সৃস্টি হয়। থানার ২শ গজের মধ্যে প্রকাশ্যে এভাবে মিছিল করার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই নগরীতে পুলিশি টহল জোরদার করা হলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর বিবিরপুকুর এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কাকলীর মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দিকে অগ্রসর হয়। এসময় মিছিলকারীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি ও পুলিশ হত্যার বিচার দাবি করে স্লোগান দেয়। একইভাবে তাদের তাদের বহন করা ব্যানারেও আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুলিশ হত্যার বিচার দাবির কথা উল্লেখ ছিল। তবে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতার দেখা মেলেনি। যারা মিছিলে অংশ নিয়েছেন তারা সকলেই অপরিচিত এবং বেশকয়েক জন মুখে মাক্স ও চশমা ব্যবহার করেছেন। ফলে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ছাত্রলীগের করা মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পরপরই নগরজুড়ে আলোড়ন শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই মিছিলে প্রায় ৩০ জন অংশ নেন। কিছু সময় সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেওয়ার পর মিছিলটি দ্রুত আশপাশের গলিতে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অংশগ্রহণকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, নগরীতে ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রম নেই। তবে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী নগরীতে মিছিল করার জন্য দুপুরে 'জুমার নামাজের সময়টিকে বেছে নিয়েছিল। নামাজ পর নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মী আকস্মিকভাবে একত্রিত হয়ে কাকলীর মোড় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের অদূরে ঝটিকা মিছিল করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মিছিলকারীদের ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানান তিনি।