আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
‘তেল নেই’ শুনে মজুত যাচাই করতে জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান শুরু করেছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের তত্ত্বাবধায়নে এ অভিযান শুরু হয়। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও সহকারী কমিশনার এ বি এম মেজবাহ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এনডিসি জানান, গ্রাহকরা জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ পেয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোর মজুত যাচাই করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাম্পগুলোর মজুত ট্যাংক খুলে যাচাই করা হয়েছে। বেশিরভাগ পাম্প তেলশূন্য থাকলেও কয়েকটির ট্যাংকে স্বল্প পরিমাণ পাওয়া গেছে। সেগুলো গ্রাহক পর্যায়ে রেশনিং করে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এনডিসি বলেন, ‘জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে খুচরা বাজারে তেল বিক্রি মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার মূল্যের চেয়ে যাতে বেশি দামে তেল বিক্রি করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।’
ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, রেশনিং পদ্ধতিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ করায় জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশন ঈদের আগেই তেলশূন্য হয়ে পড়ে। এতে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েন। সোমবার সকালে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে স্বল্প পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়। পরে গ্রাহক পর্যায়ে রেশনিং করে বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু সব স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হয়নি। ফলে তেল বিক্রি স্বাভাবিক হয়নি।
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের সোনামনি ফিলিং স্টেশনের মালিক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সোমবার সকালে ২৫০০ লিটার পেট্রল পেয়েছি। চাহিদার তুলনায় এটা খুবই সামান্য। পাম্পে তেল পৌঁছামাত্র তা বিক্রি শুরু করেছি।’
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুরের মেসার্স নজরুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনের মালিক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগের দিন থেকে আমার পাম্পে জ্বালানি তেল নেই। সোমবার কিছু ডিজেল পাওয়া গেছে। তবে দুপুর পর্যন্ত তা স্টেশনে পৌঁছায়নি। কিন্তু পেট্রল আর অকটেন পাওয়া যায়নি।’
ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামান আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পগুলোতে মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন প্লেট ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি করতে বারণ করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তা চেয়েছি। তেল পাওয়া সাপেক্ষে নির্দেশনা অনুযায়ী বিক্রি করা হবে। তবে আমরা চাই চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হোক।’