ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ , ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনকে পুঁজি করে দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া বৃদ্ধি কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য, চরম জনদুর্ভোগ


আপডেট সময় : ২০২৬-০২-১৫ ২৩:০৫:২৬
নির্বাচনকে পুঁজি করে দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া বৃদ্ধি  কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য, চরম জনদুর্ভোগ নির্বাচনকে পুঁজি করে দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া বৃদ্ধি কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য, চরম জনদুর্ভোগ
 
মোঃ অপু খান চৌধুরী।।
 
কুমিল্লা জেলার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সড়কে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। নির্ধারিত ভাড়া ৬০ টাকা হলেও বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী, শিশু ও কর্মজীবী মানুষ।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া সিএনজি স্টেশন থেকে কুমিল্লা শহরে যেতে যাত্রীদের কাছ থেকে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন চালকেরা। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ ও সিএনজির স্বল্পতাকে পুঁজি করে একটি চক্র সংঘবদ্ধভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
 
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি সড়কের বিভিন্ন অংশ সংস্কার করা হয়েছে। তবে ভরাসার বাজার ও টাটেরা এলাকায় আংশিক সংস্কারকাজ চলমান থাকায় মাঝে মাঝে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই অজুহাতে চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। যদিও যাত্রীদের দাবি, যানজট সাময়িক হলেও ভাড়া বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে বহাল রাখা হয়েছে।
 
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শহর থেকে ভোট দিতে এলাকায় আসা অনেককে তিন থেকে চারগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সেই ভাড়া নৈরাজ্য অব্যাহত রয়েছে বলে জানান যাত্রীরা।
 
ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লাগামী যাত্রী আবুল কালাম বলেন, নির্বাচনের আগের দিন ১২০ টাকা দিয়ে এসেছি। এখন যেতে ১৮০ টাকা চাচ্ছে। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।
আরেক যাত্রী ফরহাদ জানান, সিএনজি কম থাকায় এখন অটো বা অন্য যানবাহনে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।
 
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কয়েকজন সিএনজি চালক বলেন, সড়কের আংশিক সংস্কারকাজ ও যানজটের কারণে সময় বেশি লাগছে। এছাড়া যাত্রীচাপ বেশি থাকায় ভাড়া কিছুটা বাড়াতে হচ্ছে। চালক জুয়েল মিয়া বলেন, জ্যামে আটকে থাকতে হয়, তাই একটু বেশি নিতে হয়। অন্য চালক ফরিদ মিয়ার দাবি, অনেক সময় যাত্রীরাই দ্রুত যাওয়ার জন্য নিজেরাই বেশি ভাড়া দিতে রাজি হন।
 
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু চালক একজোট হয়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি না দিলে যাত্রী তুলতে চান না। এতে সাধারণ মানুষ একপ্রকার জিম্মি অবস্থায় যাতায়াত করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন, এমন ভাড়া নৈরাজ্য দেশের আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
 
সড়ক সংস্কারের পর অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা।
ঝুঁকি এবং নিরাপত্তাহীনতায় যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
 
ভুক্তভোগী যাত্রীদের একটাই দাবি,প্রশাসন যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর, নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযানের মাধ্যমে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করে।
 
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান জানান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান এ বিষয়ে আমাকে অবগত করায় আমি আজও ১ ঘন্টা ব্রাহ্মণপাড়া সিএনজি স্টেশনে ছিলাম।

 কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ করে নাই। তারপরও কোনো অসাধু চালক যদি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে, তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ