ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তের আশ্বাস


আপডেট সময় : ২০২৬-০২-০৩ ০৯:৪৩:৫৮
ত্রিশালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তের আশ্বাস ত্রিশালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তের আশ্বাস
 
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
 
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) নামে গেজেটভুক্ত সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংরক্ষিত প্রায় ৩০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
 
জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস ও গুদামঘর নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করে গেজেট প্রকাশ করে। হুকুম দখল শাখার ৮৮৮ স্মারকের মাধ্যমে ওই জমি অধিদপ্তরের নামে নথিভুক্ত হয়। তবে সম্প্রতি ওই জমির একটি অংশ খনন করে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
 
অভিযোগ রয়েছে, ত্রিশাল উপজেলার ২নং বৈলর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল সরকারি ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে জমিতে খুঁটি পুঁতে বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
 
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, আবু কাওসার, সাজেদা বেগম ও এমদাদুল হক জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পাশের প্রায় ৮ শতাংশ সংরক্ষিত জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই দিন আগেও অফিসের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে গেছে। প্রভাবশালী হলেই কি এভাবে সরকারি সম্পত্তি দখল করা যায়?”
 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান মুকুলের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
 
ত্রিশাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “গেজেট অনুযায়ী ৩০ শতাংশ জমি আমাদের দখলে রয়েছে এবং আমরা তা ব্যবহার করছি। এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি জমিটি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হস্তক্ষেপ করে জমি দখলমুক্ত করেন। এখন আবার একই চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
 
ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী জানান, “বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র যাচাই করে মালিকানা ও সীমানা নিশ্চিত করা হবে। আপাতত সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মাধ্যমে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ